চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: চারিদিকে এত সমন্বয়হীনতা কেন

১.
করোনার ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেখানে প্রতিদিনই তাদের ব্রিফিংয়ে সবাইকে যার যার জায়গায় থাকার অনুরোধ করছে; যে যেখানে আছেন সেখানে বসেই তাদের ঈদ করার পরামর্শ দিচ্ছে; সাধারণ ছুটির কারণে গণপরিবহনও যেখানে বন্ধ—সেখানে হঠাৎ করেই র‌্যাবের পক্ষ থেকে ঘোষণা এলো ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করা যাবে। অর্থাৎ বাড়ি যাওয়া যাবে। আর যখন আপনি ব্যক্তিগত গাড়িকে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেবেন, তখন সেই গাড়ি পারাপারের জন্য ফেরিও চালু রাখতে হবে। হয়েছেও তা-ই। মানুষ দলে দলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে, তারা তো বটেই, যাদের নেই তারাও গাড়ি ভাড়া করেছেন। এই ফাঁকে রেন্ট এ কার ব্যবসার পোয়াবারো।

যে পথের ভাড়া ১০ হাজার টাকা, তারা সেই ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণ। আবার সবার যেহেতু এত টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি যাওয়ার সক্ষমতা নেই, অতএব তারা মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা এমনকি মেশিনলাগানো তিন চাকার রিকশাও চড়ে, অনেকটা পথ হেঁটে এমনকি পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে ফেরিঘাটে যাচ্ছেন। ফেরি পার হয়ে ওপার থেকে আবার মাইক্রোবাসে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। যেহেতু বলা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে বাধা নেই, অতএব একটি মাইক্রোবাসে ১০-১২ জন মানুষ গাদাগাদি করে বসে সেটিকেও ব্যক্তিগত গাড়িতে পরিণত করা হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না, এই যুক্তিতে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হলেও এইসব মাইক্রোবাস ঠিকই গণপরিবহন হয়ে উঠেছে এবং সেখানে শারীরিক দূরত্ব কিংবা তার ভেতরে বসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বালাই নেই।

বিজ্ঞাপন

এখন ভাবুন, একটি মাইক্রোবাসে যদি একজন করোনায় আক্রান্ত রোগী থাকেন, চলার পথে তিনি কতজনকে আক্রান্ত করলেন এবং এই লোকগুলো ঈদের আনন্দে বাড়িতে গিয়ে আরও কত শত লোককে আক্রান্ত করবেন? এটা ঠিক, ঢাকা শহরে যারা থাকেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই এ মুহূর্তে বাড়িতে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিশেষ করে গরিব মানুষ, যাদের কাজ নেই। কিন্তু সেই শ্রেণির মানুষের তো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই বা গাড়ি ভাড়া করেও তাদের পক্ষে বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়া হলো কাদের স্বার্থে? যাদের গাড়ি আছে, পয়সা আছে তাদের জন্য?

কিছুটা আশার সংবাদ হলো, বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা এভাবে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িফেরা মানুষদের ব্যাপারে সংবাদ পেলেই তাদের বাড়িতে লকডাউন করে রাখছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে তারা যাতে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। কিন্তু এভাবে কত লোককেই বা ঠেকানো যাবে? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, পুলিশের চোখ ফাঁকি দেয়া গেলেও করোনাকে ফাঁকি দেয়া যাবে না। বাস্তবতা হলো, বাড়ি যেতে এখন আর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে হচ্ছে না। বরং পুলিশই রাস্তার সমস্ত বাধা তুলে দিয়েছে। গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

মানুষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ভয় পায় না। ভয় পায় র‌্যাব, পুলিশ, আর্মিকে। সুতরাং র‌্যাব যখন বললো ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি যাওয়া যাবে, অতএব মানুষ আর ঘরে থাকবে কেন? তারা তো এরকম একটি ঘোষণার অপেক্ষাতেই ছিল। হুড়মুড় করে যে যেভাবে পারছে ছুটছে। কিন্তু এর পরিণতি কেউ ভাবছেন?

দেখা যাচ্ছে এখানে স্পষ্টতই সরকারের বিভিন্ন বিভাগের অবস্থান বিপরীতমুখী। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দিলো, অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বললো কেউ ঘরের বাইরে বের হবেন না, আবার কেউ গেলে তাকে লকডাউন করে দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন; সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীও বাড়িতে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি সরকারের সাথে পরামর্শ না করেই ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিয়েছে?

২.
করোনার ঝুঁকি এড়াতে প্রথমে মসজিদে জুমার নামাজ এবং পরে জামাতে নামাজ আদায়ও বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নানা মহলের দাবির মুখে সরকার এটি শিথিল করে। বলা হয়, শারীরিক দূরত্ব (অন্তত তিন ফুট) এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে জামাত আদায় করা যাবে। এই সিদ্ধান্তের পরে বিভিন্ন মসজিদে জামাত আদায়ের যে চিত্র সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার ঈদের জামাতও মসজিদে আদায়ের সিদ্ধান্ত দেয় এবং বলা হয়, প্রয়োজনে প্রতিটি মসজিদে একাধিক জামাত হবে। কিন্তু অন্যান্য নামাজের সাথে ঈদের নামাজের একটা বড় পার্থক্য হলো, ঈদের নামাজে প্রচুর লোক সমাগম হয়। লাখ লাখ মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে আসেন। সুতরাং মসজিদে ঈদের জামাত হলে সেখানে দুজন মুসল্লির মাঝখানে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা; প্রতিটি জামাতের পরে মসজিদ জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার করা ইত্যাদি আদৌ সম্ভব হবে কি না—সে প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার সবাই মোটামুটি একই সময়ে মসজিদে যাবেন। সুতরাং কারা আগে দাঁড়াবেন, কারা দ্বিতীয় জামাতে, কারা তৃতীয় জামাতে, সেটি কে নির্ধারণ করবেন?

বিজ্ঞাপন

বরং বড় মাঠে বা স্টেডিয়ামে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সহজ। সেসব জায়গায় অন্তত তিন ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারতেন। সেক্ষেত্রে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশাপাশি দুটি স্টেডিয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠসহ অন্যান্য মাঠ ও খোলা প্রান্তরে ঈদের নামাজের আয়োজন করা হলে সেখানে সহজেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা যেতো—যা মসজিদে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এখন প্রশ্ন হলো, ধর্ম মন্ত্রণালয় বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদে ঈদের নামাজের যে সিদ্ধান্ত দিলো, সেটি কাদের পরামর্শে করেছে? এ বিষয়ে তারা ইসলামিক স্কলার, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ নিয়েছে? যদি নিয়ে থাকে তাহলে কেউ কি তাদের স্টেডিয়াম বা সারা দেশের বড় বড় মাঠে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দেননি? সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, ঈদের নামাজ ইস্যুতেও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটা বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে।

৩.
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার শুরুটা অবশ্য করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকেই। সকালে প্রজ্ঞাপন, বিকেলে বাতিল; সকালে এক সিদ্ধান্ত, সন্ধ্যায় আরেকটি—এরকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ছুটি এবং গণপরিবহন বন্ধের ভেতরেই ৪ এপ্রিল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক ঢাকায় এসেছেন। যে যেভাবে পেরেছেন। ট্রাকের ছাদে উঠে, এমনকি দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে। কারণ, বলা হচ্ছিলো পরদিন ৫ এপ্রিল গার্মেন্টস খুলবে। শ্রমিকদের ঢাকার ফেরার ওই ভয়াবহ দৃশ্য গণমাধ্যমে সারা দেশের মানুষই দেখেছে। ফলে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ৫ এপ্রিল রাতে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন-বিজিএমইএ’র তরফে জানানো হয়, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ। প্রশ্ন উঠেছে, এই ভয়াবহ ঘটনার দায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে কি না? তাদের সাথে কি এ নিয়ে বিজিএমইএর কোনো যোগাযোগ ছিল না?

করোনার প্রকোপ শুরুর পরেই সবচেয়ে বেশি অব্যবস্থাপনা আর নৈরাজ্য শুরু হয় দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায়। সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতাল চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। করোনার উপাসর্গ যেমন জ্বর সর্দি কাশি থাকলে তাকে দেখে চিকিৎসকরা কাছেও যাননি। অন্যান্য অসুখ বিসুখে যাদের নিয়মিত চিকিৎকের কাছে যেতে হয় তারাও বিপাকে পড়েন। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিকিৎসকেদর হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে। এরপর করোনা ইস্যুতে গণমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা মনিটরের জন্য কয়েকজন উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব এবং তাদের সমমর্দযাদার কিছু কর্মচারীকে দিয়ে একটি কমিটি করে তথ্য মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের তরফে এর তীব্র প্রতিবাদ উঠলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই প্রজ্ঞাপনটিও সরকার প্রত্যাহার করে। প্রশ্ন ওঠে, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তি তথ্যমন্ত্রী এবং তথ্যসচিবের নির্দেশনা ছাড়া কি এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে নাকি শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্দেশেই হয়েছে?

করোনা মোকাবেলায় মাঠ প্রশাসনের সমন্বয়হীনতাও প্রকট আকারে চোখে পড়ে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের মধ্যে এ সমন্বয়হীনতা বেশি বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। যে কাজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে করার কথা সেটি করছে পুলিশ। আবার যেটি সিভিল সার্জন করার কথা সেটি করছেন সিভিল প্রশাসন। করোনায় ত্রাণ সরঞ্জাম, ওষুধ, পিপিই, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি বিতরণে সবচেয়ে বেশি সমন্বয়হীনতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পিপিই সিভিল সার্জনের চাহিদা মোতাবেক ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা কথা থাকলেও তা বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। এতে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী পিপিই না পেলেও অনেক রাজনৈতিক কর্মী এসব বাগিয়ে নিয়েছেন বলেও খবর এসেছে।

স্থানীয় বাজারে কোন দোকান খোলা রাখা হবে আর কোন দোকান খোলা রাখা যাবে না তা নিয়েও পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার খবর এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও সিভিল সার্জনের কথায়ও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দ্বন্দ্ব বাড়ছে বলেও জানা গেছে।

ফলে এসব সমন্বয়হীনতা দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দেশটা আসলে কারা চালাচ্ছেন? সেই প্রশ্নের কিছুটা উত্তর মিলবে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদের কথায়। গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক শোকসভায় তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রাজনীতি এখন দেশের রাজনীতিবিদদের হাতে নেই।’ একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বর্তমান রাজনীতি লুটেরাদের হাতে। আজকের রাজনীতি এমন সব বড়লোকের হাতে যারা এ দেশের মানুষের স্বার্থরক্ষা করে না।’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আগে রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করত। আর এখন রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে একটা বিকল্প প্রয়োজন।’

এই তিন সিনিয়র পলিটিশিয়ান যা বলতে চেয়েছেন, সেখানে গোপন কিছু নেই। বহুদিন ধরেই দেশের রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ফসকাতে শুরু করেছে। সেখানে রাজনীতিবিদদের নিজেদের দায় কতটুকু, তা অন্য তর্ক। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো যেভাবে প্রশাসনিক এবং অরাজনৈতিক শক্তিবর্গের কাছ থেকে আসছে, তাতে রাজনীতিই শুধু নয়, বরং রাষ্ট্রও যে রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণে থাকছে না, তারও কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)