চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব থাকবে তো?

করোনার কারণে দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর রাজধানীতে আবার বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সীমিত যাত্রী নিয়ে বাস চলছে। মানুষ তার গন্তব্যে যাওয়ার জন্যে বিশেষ করে অফিস আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্যে বাসটাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ অন্য যানবাহনে ভাড়া বেশি দিতে হয়।

সীমিত যাত্রী নেয়ার কারণে স্বভাবতই বাস মালিকদের লোকসান গুণতে হতে পারে তাই ভাড়াও ষাট থেকে আশি শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় আছে। তবে এখনও আগের চেয়ে কোথাও কোথাও দেড়গুন আবার কোথাও তারচেয়েও বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীরাও খুব বেশি এটা নিয়ে হৈচৈ করছে না। কারণ বাসে গাদাগাদি করে দাড়িয়ে যেতে হচ্ছে না। পাশাপাশি সিটেও যাত্রীদের বসতে হচ্ছে না। কিছুটা দূরত্ব নিয়েই যাত্রীদের বসাচ্ছে হেলপার ক-াক্টররা। কোনো কোনো বাসে যাত্রীদের ওঠানোর সময় পায়ের জুতা বা সেন্ডেলে ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে তবেই ওঠানো হচ্ছে। বিষয়টা সচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে করোনাকালে বাসের হেলপার কন্ডাক্টর আর চালকদের বেশ আন্তরিক দেখা যাচ্ছে। খুবই ভাল বিষয়। এখন কথা হচ্ছে- এভাবে কতদিন তারা আন্তরিকতা দেখাবে। আর তারা যদি আন্তরিকতা না দেখায় বা সচেতনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় তখন তাদেরকে কে বা কারা সচেতন করবে?

সেই প্রসঙ্গটা কোথাও কোথাও আলোচনা চলছে। আলোচনা চলার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কারণ রাজধানীর বেশিরভাগ বাসের মালিকানা সরকার দলীয় সংগঠনের নেতাদের। আর এইসব মালিকদের নিয়োজিত চ্যালাচামুণ্ডাদের স্বেচ্ছাচারিতার কথা কমবেশি যাত্রীরা জানেন।

বিজ্ঞাপন

সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিংপনা থেকে শুরু করে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা, কোথাও দুর্ঘটনা ঘটানোর পর মামলা হলে বাস ধর্মঘটসহ নানাভাবে জনগণকে হয়রানি তো নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। সেই চ্যালাচামুণ্ডারা, যারা জায়গায় জায়গায় বাস থামিয়ে দশ/বিশ টাকা করে নিয়ে কতজন যাত্রী বাসে আছে চেক করে একটি কাগজের সিটে স্বাক্ষর করে দেয়, তারা যদি কিছুদিন পর বেশি টাকা নিয়ে বাসে সামাজিক দূরত্বের পরিবর্তে গাদাগাদি করে যাত্রী ওঠাতে সহায়তা করে, তখন সেই বিষয়টা কে তদারকি করবে? আর এই সামাজিক দূরত্বের ব্যত্যয় ঘটার কারণে কেউ যদি করোনা আক্রান্ত হন সেই দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে?

ভাড়া বেশি নিয়ে যাত্রীদের ভেতর তেমন একটা উচ্চবাচ্য না হলেও এই সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে ঝগড়াঝাটি মারামারি যে হবে না তা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ এরা হচ্ছে মালিকদের পেটোয়া বাহিনী। এদের থানা পুলিশ বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারে না, এতটাই ক্ষমতাবান এরা।

এই প্রসঙ্গটি আশা করি আমাদের বাস মালিক সমিতির কর্তাব্যক্তিরা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল অবশ্যই ভেবে দেখবেন। কারণ আমরা এই মুহুর্তে এমন একটি সময় পার করছি যখন সবাই সবার প্রিয়জন না হলে রক্ষা নেই। শুধু সবাই সবার ভাল চাইলেই সম্ভব করোনাকে মোকাবেলা করা। নইলেই বিপদ। মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ বড় হতেই থাকবে।

এছাড়া আমি বা আপনি কারো যেন ঘাতক না হই, অজান্তেই যেন কারো শরীরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে খুনির খাতায় নাম না লেখাই-এই বোধটুকু সবার ভেতরে জাগ্রত হলেই ঠেকানো যাবে মৃত্যুর মিছিল। নইলে বৃথাই সব আয়োজন।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)