চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: খুবিতে শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া ৫৫ শতাংশ কমলো

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মেস মালিকদের কাছে ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অথচ আন্দোলনের সাথে যুক্ত এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেন মেস মালিকেরা। শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীসহ অন্য শিক্ষার্থীদের সাথে মালিকপক্ষকে সমঝোতার জন্য থানায় ডাকা হয়। থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার ৫৫ শতাংশ মওকুফ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জানা যায়, গত ৩ জুলাই শিক্ষার্থী-মেস মালিক-পুলিশের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বছরের এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত মেসভাড়া ৪৫ শতাংশ হারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার জনাব মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামনগর ও খানজাহান নগর মেস মালিকদের সাথে শিক্ষার্থীদের আপসনামা সাক্ষরিত হয়।

উক্ত সভার সিদ্ধান্তগুলো হলো- মার্চ মাস পর্যন্ত প্রচলিত নিয়মে মেসভাড়া প্রদান, এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত পুরো ভাড়া ৪৫ শতাংশ ও বিদ্যুৎ বিল প্রদান, যারা ইতিমধ্যে ভাড়া প্রদান করেছেন তাদের টাকা ফেরতযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। কোন প্রাক্তন শিক্ষার্থী যিনি চাকরির পড়াশোনার জন্য মেসগুলোতে অবস্থান করছেন তিনিও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন। তবে চাকরিরত কোন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেস মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন- শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। করোনাকালে এই সংকট আরও তীব্র হয়। মেসভাড়াকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষার্থী মেস মালিকদের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হুমকি ধমকি প্রদানের অভিযোগ তুলে হরিণটানা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিমুখী বৈঠকে সমস্যার সমাধান করা হয়।

ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, অন্যান্য এলাকার মেস মালিকদের একইরকম মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তাদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত শতভাগ শিক্ষার্থীকে আবাসন সুবিধা দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে পরবর্তীতে এমন পরিস্থিতিতে আর পড়তে না হয়।

হরিণটানা থানার ওসি বলেন, সারাদেশ জুড়েই শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটের সম্মুখীন। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় দুই পক্ষের আপসের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার ৫৫ শতাংশ মওকুফের ব্যবস্থা করে দেই।