চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিলসহ ঢাকা চেম্বারের নানা প্রস্তাব

মহামারি করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতি ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তহবিল গঠনে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যে সব অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এমএসএমই) সরকারি জায়গায় ভাড়া থাকেন, সেখানে ৬ মাসের জন্য ভাড়া মওকুফ করা।  এমএসএমই’র জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদ আগামী ১ বছরের জন্য মওকুফ করা, ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর জমাদান এ বছর স্থগিত রাখাসহ কয়েকটি প্রস্তাব রেখেছে ডিসিসিআই।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটি বলেছে, এসএমই খাত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও করোনার প্রভাবে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। অর্থনীতির সব স্তরে এমএসএমই’র অর্ন্তভুক্ত সব খাতই ক্ষতিগ্রস্থ। অনেক এমএসএমই সীমিত বেচা-কেনা ও পুঁজি সংকটের কারণে খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। তাই সময়মত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারছে না। যা বেকারত্ব বৃদ্ধির আশংকা তৈরি করছে। এ দুঃসময়ে ঢাকা চেম্বার সরকারকে স্থানীয় এমএসএমই’র ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা ও এমএসএমই সুরক্ষায় স্বল্প এবং মধ্য মেয়াদি আর্থিক, অনার্থিক নীতিপরিকল্পনানির্ভর সহায়তা প্রদান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এমএসএমই এবং অপ্রচলিত খাতের সুরক্ষায় বেতন-ভাতা পরিশোধের সুযোগ করে দিতে ডিসিসিআই সরকারকে ১ শতাংশ সুদে ৩ বছর মেয়াদি একটি জরুরী তহবিল গঠন করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে। যে সব এমএসএমই’র বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা, তাদের জন্য ১ শতাংশ আর যে সকল এমএসএমই’র বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকার উপর তাদের জন্য ২ শতাংশ সুদে উক্ত তহবিল থেকে ঋণ দেয়া যেতে পারে বলেও প্রস্তাব করেছে তারা। সারাদেশে বিসিক শিল্প নগরীর অন্তর্ভূক্ত কারখানাগুলোও এ বিশেষ জরুরী তহবিলের আওতায় আসতে পারে। আর এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এমএসএমইর জন্য ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া যেতে পারে বলে ডিসিসিআই মনে করে।

বিজ্ঞাপন

করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠন বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, রপ্তানিমুখী শিল্প কলকারখানা, স্থানীয় বাজার নির্ভর উৎপাদন খাত, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পখাত, সেবা খাত, অতি ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়, ট্রেডিং নির্ভর ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা, হোটেল, রেঁস্তোরা, মুদি দোকান, অপ্রচলিত খাত যেমন ভাসমান অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকান-পাট উদ্ভুত এ পরিস্থিতিতে মারাত্নকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এমতাবস্থায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে সরকার অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প সুরক্ষায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে সরকার। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পের কার্যাদেশ বাতিল, পণ্য পাঠাতে বিলম্ব এবং রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় তাদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

এমএসএম’র ক্ষেত্রে অনাদায়ী দেনা আদায় হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়বে জানিয়ে ডিসিসিআই বলেছে, এখন সব ব্যবসায়ী একই পরিস্থিতিতে রয়েছে। এ অনিশ্চিত সময়ে এমএসএমই’র জন্য তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিসিসিআই এমএসএমই’র জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদ আগামী ১ বছরের জন্য মওকুফ করার আহ্বান জানাচ্ছে।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ এমএসএমই’র উপর করের বোঝা লাঘব করতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর জমাদান এ বছর স্থগিত রেখে তা আগামী ৩ বছরে সমান ৩টি কিস্তিতে ভাগ করে রিটার্ণের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোনরকাম জরিমানা ছাড়া পরিশোধের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ডিসিসিআই বলেছে, যে সব এমএসএমই সরকারি জায়গায় যেমন বিসিক শিল্প নগরী বা ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত, তাদের ভাড়া ৬ মাসের জন্য মওকুফের দাবি জানাই। বাণিজ্যিক ভাড়া, বিদুৎ, গ্যাস, পানির বিল এবং লাইসেন্স নবায়নের উপর প্রযোজ্য ভ্যাট আগামী ৬ মাসের জন্য মওকুফ করা যেতে পারে।

আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে যেমন খাদ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, মেডিকেল সরঞ্জামাদি, রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারি কারখানার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রিম কর ও ভ্যাট আগামী ৬ মাসের জন্য অব্যাহতি দিতে পারে, যা অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আবার সাবলম্বি হতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার।