চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ক্লিনার ও জীবাণুনাশকে বাড়ছে মানবদেহের বিষক্রিয়া

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ব্যবহৃত ক্লিনার ও জীবাণুনাশক মানবদেহে বিষক্রিয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

সোমবার সিডিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণের কারণে অধিকাংশ মানুষই ঘরে ভেতর থাকছেন এবং ক্লিনার ও জীবাণুনাশকের মাধ্যমে নিজে এবং বাসা-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছে। কিন্তু ওই জীবাণুনাশকই মানবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞাপন

এক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০১৯ ও ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিষক্রিয়ার পরিমাণ ২০ শতাংশ বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

চলছি বছর আমেরিকার ৫৫টি সিডিসি কন্ট্রোল সেন্টারে ৪৫ হাজার ফোনকলের ওপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান করা হয়েছে।

সিডিসি জানায়, ২০১৯ সালে ফোনকল ছিল ৩৮ হাজার এবং ২০১৮ সালে ছিল ৩৯ হাজার।

বিজ্ঞাপন

ওই পরিসংখ্যানে বলা হয়, এই বছরে যে ফোনকলগুলো এসেছে তারমধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ ফোনকল ছিল ৫ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের বাচ্চাদের মধ্যে বিষক্রিয়া। তবে সব বয়সের ক্ষেত্রেও বিষয়টি দেখা গেছে।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে এক শিশু পানি মনে করে হ্যান্ড স্যানিটাইজার খাওয়ার পরই মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এছড়াও এক বৃদ্ধা রান্নাঘরের সিঙ্কে সবজিগুলো ভিনেগার, ব্লিচ সঙ্গে গরম পানি দিয়ে ধোয়ার সময় হঠাৎ করেই তার কাশি শুরু হয়, পরে তিনি জোরে শব্দ করে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে থাকেন।

সিডিসির গবেষণায় বলা হয়, ব্লিচই মূলত বিষক্রিয়া বৃদ্ধির সঙ্গে সামগ্রিকভাবে জড়িত। কারণ রাসায়নিকভাবে ব্লিচে ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট আর্দ্র এবং অনাদ্র দুই অবস্থায় থাকে এবং এর থেকে তীব্র ক্লোরিনের গন্ধ পাওয়া যায়, যা কিনা বয়স্কদের শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার সৃষ্টি করে। আর ক্লোরিনের গন্ধটা অনেকে সহ্য করতে না পেরে বমি করে দেয়। তবে ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মূলত নন অ্যালকোহল জীবাণুনাশক এবং হাতের স্যানিটাইজার ব্যবহার এই জাতীয় বিষক্রিয়া বৃদ্ধি করেছে।

গবেষণায় সিডিসি বিষক্রিয়া হ্রাস করার পরামর্শও দিয়েছে। সেগুলো হলো বাড়ি ঘর পরিষ্কারের সময় অবশ্যই মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, পানির সঙ্গে যেকোন রাসায়নিক দ্রব্য মিশানোর সময় সেটার লেবেলের উপরের নির্দেশাবলী অনুসরণ করা, যে রুমে বেশি বাতাস চলাচল ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে বায়ুচলাচলে অঞ্চলে রাসায়নিক ব্যবহার করা।

এছাড়াও ক্লিনার এবং জীবাণুনাশকদের বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।