চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: কুমিল্লায় শনাক্ত দেড় হাজার ছাড়ালো

মৃত্যু অর্ধশতাধিক

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণে টালমাটাল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা। জেলায় প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা; ঘটছে প্রাণহানি।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা মৃত্যুও ছাড়িয়ে গেছে অর্ধশতক (অন্তত ৬০ জন)। এছাড়া প্রতিদিনই করোনার সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে একাধিক মৃত্যুর তথ্য মিলছে কুমিল্লায়।

বিজ্ঞাপন

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, মূলত গেল ১০ দিন যাবত কুমিল্লায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে ঘটছে প্রাণহানিও।

বিজ্ঞাপন

জেলা সিভিল কার্যালয়ের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বুধবার (১০ জুন) পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় করোনাভাইরাস হয়েছে ১৫শ’ ১৫ জনের। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৮ জন। অবশ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রদত্ত মৃত্যুর এ তালিকা ছাড়াও আরও অন্তত ১২ থেকে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে জেলায়। যাদের অনেকে কুমিল্লায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বাইরে মারা গেছেন; আবার অনেকে জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লায় এসে মারা গেছেন। মারা যাওয়া এসব ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই হিসাবে কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬০ জন।

এছাড়াও প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে কুমিল্লায়। গেল ৫ দিনে (শনিবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর ১২টা) কুমিল্লায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছিলো অন্ত ১৭ জনের শরীরে।

সবশেষ বুধবার (১০ জুন) মধ্যরাতে ও ভোরে কুমিল্লা মেডিকেলের আইসুলেশনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দু’জন। তার আগের মঙ্গলবার কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যান আরও ৪ জন।

বিজ্ঞাপন

তার আগের দিন সোমবার ৬ জন, রোববার ৫ জন এবং শনিবার করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে মারা যান অন্তত ১৫ জন। এদিন (৬ জুন) মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ৭ জনই ছিলেন করোনা আক্রান্ত। গত ৫ দিনে কুমিল্লায় মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৮ জন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন।

এই ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন কোভিড আক্রান্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৯ এপ্রিল। পরদিন ১০ এপ্রিল থেকে কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আর সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সে লকডাউন তুলে নেয়া হয় ৩১ মে। মূলত এদিন থেকেই কুমিল্লায় কোভিড সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। ৩১ মে কুমিল্লায় প্রথম একদিনে শতাধিক করোনা রোগী (১০৪) শনাক্ত হয়। এরপর আরও দু’দিন একশ’র বেশি (৪ জুন ১০৫ এবং ৫ জুন ১১৬ জন) করোনা রোগী শনাক্তের তথ্য দেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আর এভাবে বাড়তে বাড়তে কুমিল্লায় ১০ জুন পর্যন্ত কোডিভ-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫শ’ ১৫ জনে। এরমধ্যে জেলা ও জেলার বাইরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬০ জন।

কুমিল্লাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনার সংক্রমণ ও সেই সাথে বাড়তে থাকা মৃত্যু প্রসঙ্গে কুমিল্লা কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. সাহাদাত হোসেন বলেন: কুমিল্লা জেলায় যত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অনেক বিভাগেও এতো রোগী নেই।

প্রতিদিনই কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কমিউনিটিতে এটি সংক্রমিত হওয়ার কারণে শনাক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা প্রসঙ্গে ডা. সাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লার বাসিন্দা যারা ঢাকায় কিংবা অন্যা জেলায় থাকেন এবং সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাদের সংখ্যা কুমিল্লা জেলার তথ্যে আসে না। এটা ঢাকায় হিসাব রাখা হয়। আমরা কেবল কুমিল্লায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্যই সংগ্রহ করি।