চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: কথিত স্বেচ্ছাসেবীদের নৈরাজ্য বন্ধ করুন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে সাধারণ ছুটির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। এবারকার ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এছাড়া ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলায় জেলায় লকডাউনও দেওয়া হচ্ছে। এটা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী সফল একটি প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশে অতি উৎসাহী কতিপয় ব্যক্তির কারণে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে।

এরমধ্যে রোববার রাতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কোটালীপাড়া সড়কের গোপালপুরে রাস্তার মাঝখানে গাছ ফেলে যানবাহন ও মানুষ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে গ্রামবাসী। সোমবার রাতে এলাকাবাসী জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে সরকার বার বার মানুষকে ঘরে থাকতে বলেছে। কিন্ত, কিছু মানুষ তা মানছে না বলেই বাধ্য হয়ে সড়কের মাঝখানে গাছ ফেলে সব ধরনের যানবাহন ও মানুষ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। এলাকার ওসি’ও বলেন মানুষকে সচেতন করার জন্য এই ব্যবস্থা। এটা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সামিল।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলে লাঠিপেটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যে ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঘর থেকে মানুষ কেন বের হয়েছে সেই প্রশ্ন রেখে, কাউন্সিলর আমিন লাঠি দিয়ে স্থানীয় বাজারে ওই সময় চলাচল করা কিছু মানুষকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। কিন্তু এ নিয়ে কারও উচ্চবাচ্য নেই যে, যাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা খাদ্যবস্তুর দরকার তাদের কী হবে? কাউন্সিলর আমিন একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, যেটি তিনি করতে পারেন না।

বিজ্ঞাপন

এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জানা যাচ্ছে যে, ব্যক্তিগত ক্ষমতার ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন এমন সংবাদ দেখা যাচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে, যারা এসব করছে তারাই আবার নিজেরা ঝুঁকির বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন!

দুঃখজনক ঘটনা হলো, কথিত কিছু স্বেচ্ছাসেবী লকডাউনের সময়টাকে বেছে নিয়েছেন তাদের বিনোদনের জন্য। তারা এলাকাবাসীকে ঘর থেকে বের না হতে রাস্তার ওপর গাছ ফেলে বাঁশ ফেলে চিকিৎসকসহ জরুরি পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়ে আবার নিজেরা সেখানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

আমরা যেকোন দুর্যোগের সময় এরকম কতিপয় বখাটে এবং বিকৃতমনা মানুষের সন্ধান পাই। যারা স্বীয় বাসনা চরিতার্থে সুযোগ কাজে লাগায়। এমনকি ত্রাণ দেওয়ার নাম করে শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, এ ধরনের অপতৎপরতা দ্রুত বন্ধু করুন। সরকারি নির্দেশনার বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানেও দেখাদেখি বা পাল্টাপাল্টি এই ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়ে গেলে সামজিক অস্থিরতা দেখা দেবে। তখন আরেকটি নতুন দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।