চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: এখনকার পরিস্থিতি ‘সীমিত আকারে’ কমিউনিটি ট্রান্সমিশন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশে যে হারে জনসাধারণের দেহে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে, তাকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলা যায়, তবে তার আকার খুব সীমিত।

শনিবার করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিং এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.আবুল কালাম আজাদ।

Reneta June

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও নয়জনের দেহে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। এই আক্রান্তদের মধ্যে আরও দুজন মারা গেছেন। ফলে দেশব্যাপী এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন আরও চারজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩০।

বিজ্ঞাপন

ডা.আবুল কালাম আজাদ বলেন, যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের মাধ্যমে প্রথমে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আমরা দেখেছি যে ঐ সদস্যদের সাথেও যারা ওঠাবসা করেন তারাও সংক্রমিত হয়েছেন। যেমন মিরপুরের একটি ঘটনা। সেখানে উনি একসাথে নামাজ পড়তে যেতেন এবং একসাথে হাঁটাহাঁটি করতেন। আক্রান্ত ব্যক্তি কিন্তু তার পরিবারের সদস্য ছিল না তার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তার সংস্পর্শে এসে তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, অবশ্য এটাকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলা যায়। তবে আমাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা কিন্তু এখনো অনেক বেশি নয়। আমরা পরিস্থিতি এখনো বুঝি নাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা অবশ্যই বলতে পারি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, তবে এটা সীমিত আকারে।

তিনি আরও বলেন, যেমন  মাদারীপুরের শিবচরে দেখেছি এক জায়গায় ১০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। সেটা কিন্তু একটা ক্লাস্টার। তবে এ রকম বাংলাদেশের অন্য জায়গায় আমরা পাইনি। আমরা পরীক্ষা আরো বাড়িয়ে দেব এবং আজকে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ বিষয়ে আরও বৈঠক করব। আমাদের কি করণীয় সে বিষয়ে  সিদ্ধান্ত নেব।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত সাড়ে ১১ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৬০হাজার জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ২ লাখের  বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।