চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: আক্রান্ত ও মৃতদের নিয়ে অমানবিকতা কেন?

করোনাভাইরাস এখনও দাপটের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে! কার্যকর কোনো ওষুধ বা ভ্যাক্সিন তৈরি না হওয়ায় করোনাভাইরাসের বিস্তার চলছে। এরমধ্যে অবশ্য চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবায় লাখ লাখ মানুষ সুস্থও হচ্ছেন। আবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুনিয়াজুড়ে দৈনিক মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এর ফলে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতদের নিয়ে নানা অমানবিক কর্মকাণ্ড করছেন।

বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও এসব অমানবিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব যদিও বিচ্ছিন্ন ঘটনা, তবুও মেনে নেওয়া কষ্টকর। এরমধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফনে বাধা। এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের একঘরে করে রেখে দিনের পর দিন খাবার না দেওয়ার ঘটনাও গণমাধ্যমে এসেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মৃতদের দাফনের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জনসাধারণকে সচেতন করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন: মৃতদেহ দাফন বা সৎকার করতে তিন চার ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তিন ঘণ্টা পরে আর মৃতদেহে এই ভাইরাসের কার্যকারিতা থাকে না। আর এ কারণেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা গেলে তাকে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে নিজ ধর্ম মেনে সৎকার কিংবা পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মহামারী পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। সব মহামারীকালে মানুষের ভিতর নানা বিভেদ, কুসংস্কার আর অন্ধত্ব মানুষের সভ্যতাকে কলংকিত করেছে। আজকের এই সভ্য যুগের মানুষও যেন সেই মধ্যযুগীয় অন্ধকার থেকে বের হতে পারেনি। আমরা এত উন্নত সভ্যতার দাবি করি অথচ আমাদের আচার আচরণ যেন বর্বরতার ভিতর খাবি খায়। পরিবার, সংসার, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান সবই যেন এই করোনাকালে নতুন রূপে আর্বিভূত হয়েছে। সমাজ সংসার সব মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে। মানুষ অমানুষ হয়ে উঠছে।

চিন্তা-চেতনার এই আধুনিক যুগের বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে একে অন্যের পাশে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত বলে আমরা মনে করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন সময়ে। সর্বশেষ কথা বলতে হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। অবশ্য এর অনেক আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে আমরা মনে করি। আমাদের আরেকটা বিষয় মনে রাখা দরকার, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে যে কেউ পড়তে পারি আমরা। কাজেই নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে যতটা সম্ভব এ সময় আক্রান্ত প্রতিবেশীসহ অসুস্থদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃতদের বিষয়ে আমাদের সচেতন অবশ্যই হতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে, আমরা তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করবো। এটি কখনোই কাম্য নয়। আর নিয়ম মেনে যেসব স্বেচ্ছাসেবী ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা চিকিৎসা এবং দাফন কাজ করছেন, তাদের বেশিরভাগই সুস্থ আছেন। সুতরাং একটি মানবিক বলয়ের মধ্যে থেকে সবাই মিলে চেষ্টা করলে করোনাভাইরাস মোকাবেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।