চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: অতি উৎসাহীদের জন্য অর্জন যেন ম্লান না হয়

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ডাক্তারসহ স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকরাও এর বাইরে নয়। করোনাযুদ্ধে তারাও সম্মুখযোদ্ধা। তবে শুক্রবার রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে যা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য মাকে নিয়ে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুগদার দক্ষিণ মান্ডা এলাকার শাওন নামের এক ব্যক্তি। ভোর পাঁচটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও পরীক্ষা করানোর অনুমতি পাননি। এ নিয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা তার কলার ধরে হাসপাতালের ক্যাম্পে নিয়ে যান। এই ঘটনার ছবি তুলতে গেলে আনসার সদস্যরা লাঞ্ছিত করেন দুই ফটো সাংবাদিককে। আনসার সদস্যদের হামলায় রুবেল রশীদের ক্যামেরার লেন্সের ফিল্টার ভেঙে গেছে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে শুরু থেকে করোনার চিকিৎসা হলেও এর আগে এখানে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এখন আবার যা ঘটল তাতে আমরা নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ থাকা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। তা না করে রোগীদের ধরে নিয়ে যাওয়া, সেই বিষয়ে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে যখন জোর দিচ্ছেন, তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যদের এমন ঘটনা অনাকাঙ্খিত। এটা কোনোভাবেই পেশাদারিত্বের সঙ্গে যায় না। একইসঙ্গে করোনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে অপেক্ষমান থেকেও টোকেন বা পরীক্ষার অনুমতি না পাওয়া দুঃখজনক। এক্ষেত্রে করোনাভাইরাস এর নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সব জায়গায় আনসার সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাউন্সেলিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। করোনাভাইরাসের এই সময়ে এমন অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্যও আমরা মুগদা জেনারেল হাসপাতাল সংক্রান্ত দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।