চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের পর বাংলাদেশে নতুন আতঙ্ক ‘পঙ্গপাল’

মধ্য আফ্রিকায় দ্বিতীয়বারের মতো হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরো বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন শস্য সাবাড় করে দেওয়া পঙ্গপাল বাংলাদেশে এগিয়ে আসছে, দানা বেঁধেছে এমন শংকা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এবারের এই শংকার উৎপত্তি। দু’দিনে সেখানে কয়েক দফা ঘুরে এসেছেন বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ দল।

২০১৯ সালের শেষদিকে আফ্রিকায় উৎপাত শুরু পঙ্গপালের। ইথিওপিয়া, ইরত্রিয়া ও জিবুতির পর তা ছড়িয়ে পড়ে সোমালিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান এবং তানজানিয়ায়। দ্বিতীয় দফায় হানা দেওয়া পতঙ্গগুলোর পাল প্রথমবারের চেয়ে ২০ গুণ বড়, আর আগ্রাসী। আগামী জুন নাগাদ এগুলো ৪০০ গুণ বড় হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

বিজ্ঞাপন

এফএও ইমার্জেন্সি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এর পরিচালক ডমিনিক বুর্জন বলেন: এমনিতেই লকডাউনের কারণে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থবির হয়ে আছে। আফ্রিকার কিছু অঞ্চল থেকে এশিয়ার কিছু অঞ্চলে পঙ্গপাল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি কিন্তু সত্যিই হুমকির মাঝে আছে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানে কয়েক লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করেছে পঙ্গপাল। আশঙ্কা আছে মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে সর্বগ্রাসি পোকার এই বাহিনী। তাহলে কি ঢুকেই পড়েছে?

কক্সবাজারের টেকনাফ সদরের লম্বরিপাড়া এলাকায় সোহেল সিকদার নামের যুবকের বাগানের এক ঝাঁক পাতাখেকো পোকা টেনে এনেছে সেই আশংকা। বৃহস্পতিবারই দমন করা হয়েছে সবগুলো পোকা। সংগ্রহ করে আনা হয়েছে নমুনা। বিশেষজ্ঞরা দেন প্রাথমিক মতামত।

বিজ্ঞাপন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কাশেম বলেন: আমি মনে করি, এটা আমাদের ফসলের ক্ষতি করার মতো তেমন পোকা নয় বা আশপাশের ফসলের জমি কিংবা গাছে এর আক্রমণ আমরা দেখতে পাইনি। ইতোমধ্যে সব পোকাই মরে গেছে।

শনিবার ঢাকা থেকে যাওয়া একদল গবেষক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। উচ্চতর গবেষণার জন্যও এনেছেন নমুনা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন উপ পরিচালক বলেন: এ পোকার ক্ষতি মূলত বনজ ও ফলজ বৃক্ষের পাতা খেয়ে থাকে। এটা আসলে ঘাসফড়িং। আপনাদের প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে যে, এটা কোনো পঙ্গপাল না। এটা ঘাসফড়িং এবং এটা বাংলাদেশেরই পোকা। এটা বাংলাদেশে আগে থেকেই আছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নাজমুল বারী বলেন: এটা তেমন কোনো ক্ষতি করে না, অল্প কিছু ক্ষতি করতে পারে। এবং এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পান্না আলী জানান: তারপরও আমরা যে কয়টা ব্লক এখানে আছে, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি প্রত্যেকটা ব্লকে যেন সেভাবে মনিটরিং করে দেখা হয় যে, কোনো গাছে বা কোনো ফসলে এ পোকা পাওয়া যায় কিনা।

এ পোকা নিয়ে আতংকিত হওয়ার যেমন কিছু নেই, নেই একেবারে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগও। সময়ই বলছে, এদিকেও রাখতে হবে সতর্ক দৃষ্টি।