চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাসের কয়েকটি লক্ষণের ‘ধারাবাহিকতা আবিষ্কার’

করোনাভাইরাস আক্রান্ত দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা সেবা দেওয়া  এবং অন্যান্যদের থেকে দ্রুত আইসোলেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েকটি লক্ষণের ধারাবাহিকতা আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য বিভাগের ফ্রন্টিয়ার্স জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কোভিড -১৯ রোগীদের লক্ষণগুলোর সম্ভাব্য ক্রম হলো জ্বর, কাশি, পেশী ব্যথা, বমিভাব, এবং ডায়রিয়া।

বিজ্ঞাপন

সাউর্দান ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন এবং বায়োমেডিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক পিটার কুহন বলেন, আমাদের ফ্লু জাতীয় অসুস্থতা এবং কোভিড -১৯ সংক্রমণ জানতে করোনা লক্ষণের এই ক্রমটি জানা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

এই নতুন তথ্যের বিষয়ে কুহন বলেন, এর ফলে চিকিৎসকরা রোগীদের খুব দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন। রোগীদের যত্ন নেওয়ার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেবেন এবং তাদের অবস্থা আরও খারাপ হওয়া থেকে রোধ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন চিকিৎসকরা।

গবেষকরা মনে করেন, দ্রুত রোগীদের শনাক্ত করা গেলে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া যাবে। মহামারি শুরুর চেয়ে কোভিড -১৯-এর জন্য এখন চিকিৎসার আরও ভালো পন্থা থাকায় পূর্বের চেয়ে কম সময়ে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান গবেষণায় বিজ্ঞানীরা চীনে ৫৫ হাজার এরও বেশি নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণগুলোর সংক্রমণের উপাত্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যর উপর ভিত্তি করে ক্রমটি দেয়া হয়েছে। ব্যবহৃত উপাত্তগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দ্বারা ১৬ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মাধ্যমে চীনা বিশেষজ্ঞ গ্রুপ দ্বারা ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১ হাজার ১০০টি স্যাম্পল নিয়ে একটি ডেটাসেট গবেষণা করা হয়।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দাবি করেন, করোনা, সার্স এবং মার্সের প্রথম দুটি লক্ষণ হলো জ্বর এবং কাশি। তবে কোভিড -১৯-এর নিম্ন জিআই ট্র্যাক্ট (ডায়রিয়া) এর আগে উপরের জিআই ট্র্যাক্ট (বমি বমি ভাব / বমি) আগে আক্রান্ত হয় বলে মনে হচ্ছে, যা মার্স এবং সার্সের থেকে বিপরীত।

গবেষণা অনুসারে, রোগীদের একটি খুব সামান্য ভগ্নাংশ প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক লক্ষণ হিসাবে ডায়রিয়া আরও আক্রমণাত্মক রোগের ইঙ্গিত দেয়। কারণ এই ডেটাসেটের যেসব রোগীর প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল, অবশেষে তারা নিউমোনিয়ায় ভুগেছেন বা শ্বাস প্রশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।