চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাত্তোর বিশ্বে চরম জ্বালানি সংকট

গত দেড় বছরের অধিককাল জুড়ে করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্ব প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে অর্থনীতিতে। পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষ চাকরি হারায়। জীবিকা হারায় লক্ষ লক্ষ মানুষ। মানুষের আয় কমে যায়। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পতিত হতে যাচ্ছে সারা বিশ্ব। আজ মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’র বরাতে জানা যায় বিশ্বজুড়ে চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে দেশে বিধিনিষেধ জারি ও সীমান্ত বন্ধ থাকায় গত বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা কমে যায় হু হু করে এবং সে কারণে দামও কমে। চলতি বছর সবকিছু আবার খুলতে শুরু করায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির চাহিদা আবার করোনা–পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে সরবরাহ সে তুলনায় বাড়ানো সম্ভব হয়নি। চাহিদার চাপে ও সরবরাহের ঘাটতিতে তাই ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১২০ ডলার। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ঋণাত্মক ৪০ ডলার। এখন তা ঠেকেছে ৮০ ডলারে। প্রায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত সোমবার দেশটিতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৮০ ডলার ছাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার গ্যাসোলিনের গড় মূল্যও বিগত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু গত সপ্তাহেই গ্যাসোলিনের দাম সাত সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ২৭ ডলারে। অথচ গত বছরের এপ্রিলে প্রতি গ্যালনের দাম ছিল ১ দশমিক ৭৭ ডলার, যা এ বছর প্রায় দ্বিগুণ। তারা বলছে, চলতি বছরের শেষে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ শীতে জ্বালানির দাম হবে আকাশচুম্বী। প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে শীতের এ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। ফলে যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তা হলো গ্যাসের চেয়ে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি। ফলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে। এদিকে জ্বালানি নিয়ে বিপাকে আছে চীন। দেশটিতে শুধু গ্যাসের দামই বাড়েনি, কয়লার দামও হয়েছে আকাশচুম্বী। চীনের উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে কয়েক ডজন কয়লাখনি বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী কয়লার দামও বেড়ে গেছে। চীনে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইস্পাত তৈরিসহ প্রায় সব শিল্পের মূল উপাদান কয়লা। এমনিতে দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ–সংকটে ছিল দেশটি। কয়লার দাম বাড়ায় তা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বহু কলকারখানা বিদ্যুৎ–সংকটে বন্ধ রয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মত দেশ এই জ্বালানি সংকট কিভাবে মোকাবেলা করবে সেটাই দেখার বিষয়। আমাদের এমনিতেই জ্বালানিখাতে সরকারের ভর্তুকি দিতে হয়। সরকার জ্বালানি বিষয়ে এখনই নজর না দিলে বিষয়টি আমাদের জন্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সরকার যেভাবে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণ করেছে সেভাবে অন্যান্যখাত খুব দুর্বল মনে হচ্ছে। জনজীবনে দ্রব্যমূল্যের দাম ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে এখনই নজরদারি বাড়াতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন