চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকাল: ক্ষতির মুখে তিন তারকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

অভিনয়ের পাশাপাশি বিকল্প পেশা হিসেবে শোবিজের অনেকেই ব্যবসায় জড়িত হন। অতীতে অনেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন, আবার কেউ নতুন আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় নেমে নাম কুড়িয়েছেন। শোবিজের এমন তিনজন পরিচিত মুখ সুজানা জাফর, নিপুণ আকতার ও নুসরাত ফারিয়া। সুজানা ফ্যাশন হাউজ ব্যবসায় জড়িত থাকলেও নিপুণ-ফারিয়া দুজনে বিউটি পার্লারের ব্যবসা করেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাদের তিনজনের ব্যবসায়িক শো রুম নগরীর অভিজাত এলাকা বনানীতে। চলমান করোনাভাইরাসে মন্দা হাওয়া তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। তিনজনের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ হয় চ্যানেল আই অনলাইনের। কথা হয় বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে। তাদের তিনজনই বলেন, ব্যবসায় বড়সড় লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সুজানা জাফর বলেন:
বছর তিনেক আগে ‘সুজানাস ক্লোজেট’ চালু হয়। সারাবছর মোটামুটি বিক্রিবাট্টা হলেও দুই ঈদের আগে ৩ থেকে ৪ দিনের ফ্যাশন এক্সিবিশনে অংশ নিলে প্রচুর সেল হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মিলিয়ে ৩ থেকে ৪ টি এক্সিবিশন করতাম। কয়েকমাস আগে বনানীতে শো রুম ছেড়ে দেয়ার পর মনে করেছিলাম আরও বেশি ফ্যাশন এক্সিবিশনে অংশ নেব। এর আগে প্রতিবছর প্রতিটি এক্সিবিশনে সফল হয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছু স্থগিত হলো।

বছরের শুরুতে ঈদের জন্য দুবাই থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকার পোশাক পণ্য কিনেছিলাম। কিন্তু বিক্রি করতে পারলাম না। কপি এবং কমন পণ্য বিক্রি করিনা বলেই দুবাই থেকে ওগুলো আনি।

ব্যবসা দেখভালের জন্য ৩ জন কর্মী রয়েছে। করোনার সময়ে ব্যবসায় লোকসান হলেও কর্মচারীরা বেতনসহ সকল সুবিধা পাচ্ছে। যতদিন আমার সামর্থ্য থাকবে দিয়ে যাবো। কারণ তারা আমার হয়েই কাজ করে। তাদের বিপদে পাশে থাকা আমার কর্তব্য। সবসময় মন থেকে বিশ্বাস করি, যে মানুষের জন্য কাজ করে বিপদে পাশে দাঁড়ায় আল্লাহ তার সবকিছুতে বরকত দেন। আর ভালো নিয়তে দান করলে কখনো কমে না, বরং বাড়ে।

নিপুণ আকতার:

২০১৬ সালে চালু হয় ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’। গত ২৩ মার্চ থেকে সবকিছু বন্ধ। ৩ জন থাই কর্মচারীসহ সবমিলিয়ে ৩০ স্টাফ রয়েছে। প্রতিমাস খরচ ১০ লক্ষাধিক টাকা। এপ্রিলে পহেলা বৈশাখে পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এবার ঈদেও বন্ধ থাকছে। প্রত্যেক স্টাফ ছুটিতে আছে। থাই মেয়েদের বাসা ভাড়াও বহন করছি। বন্ধ থাকার পরেও প্রত্যেক স্টাফ নিয়মিত বেতন, ঈদ বোনাসসহ সব সুবিধা পাচ্ছে। একেবারে বছরের পিক টাইমে সবকিছু বন্ধ রাখতে হয়েছে। এই সময়টা দম ফেলার টাইম ছিল না। দৈনিক লক্ষাধিক টাকা টার্গেট থাকতো। টার্গেট পূরণ হতো। বৈশাখ, পূজায় বন্ধ থাকায় ক্ষতির পরিমাণ কোটির উপর যেতে পারে।

নুসরাত ফারিয়া :
বড়বোন মারিয়ার সঙ্গে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মারিয়াস ব্রাইডাল স্টুডিও অ্যান্ড বিউটি কেয়ার’। ২৬ মার্চ সারাদেশে লকডাউন কার্যকরের দিন থেকেই এটি বন্ধ রাখি। সবাইকে বলা আছে অফিসিয়ালি লকডাউন তুলে না নেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ওটাতে টাকা নিয়ে অনেকের প্রি-বুকিং রাখা আছে মেকআপ, হেয়ার স্টাইলসহ অনেক ধরণের ট্রিটমেন্টের। এজন্য অনেক ক্লাইন্ট ফোন করে সার্ভিস চাচ্ছে। ঢাকায় অনেককিছুই একটু একটু করে চালু করা হচ্ছে। কিন্তু আমি আরও কটাদিন অপেক্ষা করতে চাই। কারণ, পার্লার ব্যবসায় কখনোই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়না।

পার্লারে আমার সবমিলিয়ে কর্মচারী ১৪ জন। বন্ধ থাকা অবস্থাতেও তারা বেতনসহ সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। আমার এ ব্যবসায় যেমন ধাক্কা লেগেছে, তেমনই মিডিয়া প্রফেশনেও একইরকম ধাক্কা লেগেছে। এখান থেকেই আমার ব্যবসায়িক মূলধন আসতো। লকডাউনের আগে ১০ মার্চ থেকে ঘরে বসা। করোনার কারণে আমার অনেক কাজের পেমেন্ট আটকে গেছে। বেশিরভাগ কাজ ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক। ঢাকার কাজেও দুএকজন প্রযোজক ছাড়া সবার সহযোগিতা পাইনি।

শেয়ার করুন: