চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকালে মন পড়ে রয় আরেক পরিবারে

পাঁচ বছর পার করে ২০ এপ্রিল ৬ বছরে পা দিচ্ছে চ্যনেল আই অনলাইন। এমন দিনে কোন উদযাপন নেই। গত বছরের উদযাপনের দিন আমরা কি এই দিনটির কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পেরেছিলাম! মানতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তবতা।

করোনা থেকে দূরে থাকতে, নিজেকে, পরিবারেরর সদস্যদের এমনকি সহকর্মীদের নিরাপদ রাখতে গত ২০ মার্চ থেকে আমরা বাসায় থেকে কাজ করছি। চ্যানেল আইতে ২০০৭ সাল থেকে কাজ করছি। কিন্তু মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়া কোন দুর্যোগে অফিস থেকে, সহকর্মীদের থেকে এত লম্বা সময় দূরে থাকতে হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বাসায় থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। পরিবারের সব সদস্য ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকছি। কাজের জন্য ছেলের পড়ার টেবিল দখল করেছি। কাজের মধ্যেই ছেলে এসে উঁকি দিয়ে যায়। কখনো পানি বা চা এগিয়ে দেয়। এই কাজের ফাঁকেই চলে রান্না, ধোঁয়ামোছা, গোসল। কারণ এখন আর অফিসের কাজের জন্য নির্দিষ্ট বাঁধা সময় নেই। ঘুমের সময়টুকু বাদে। এই ‘স্টে হোম’ এর সময়ে কোন সাহায্যকারী ছাড়া পরিবারের সবাই মিলে সব কাজ করার চর্চাও হয়ে যাচ্ছে।

প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অনলাইনের কর্মীরা বাসায় থেকে কাজ করতে পারলেও মাঠে থেকে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের টিভি’র সহকর্মীদের। তাদের জন্য আমরা উদ্বেগে থাকি। করোনাকালের এই সম্মুখ যোদ্ধাদের স্যালুট জানাই এবং তাদের জন্য দোয়া করি।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই টিভিতে নূন্যতম কর্মী দিয়ে বুলেটিন চালানো হচ্ছে। কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের তাগিদে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন সুরক্ষা উদ্যোগ।

করোনাকালে আমাদের কতদিন ঘরে থেকে কাজ করতে হবে তা নিশ্চিত করে জানি না। কিন্তু খুব করে চাই, খুব তাড়াতাড়ি এই বন্দীজীবন থেকে মুক্তি লাভ করি। ফিরে যেতে পারি প্রিয় কর্মস্থলে, সহকর্মীদের মাঝে।

আগামীতে টিভি এবং অনলাইনের বর্ষপূর্তির উদযাপন আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে করতে পারি সেই কামনা করি।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)