চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকালে বাজেট হোক আরও বেশি জনবান্ধব

জুন মাসে আসছে নতুন অর্থবছরের (২০২১-২২) বাজেট। করোনার দুর্যোগকালে এটি ২য় বাজেট। ইতিমধ্যে নতুন অর্থবছরে ১ হাজার ৫১৫টি প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। মঙ্গলবার (১৮ মে) এনইসি সভার সভাপতিত্ব করেছেন এনইসির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশ, করোনা মোকাবিলার লক্ষ্যে তৈরি করা নতুন অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার কম বেশি। বরাবরের মতো নতুন অর্থবছরের বাজেটেও (প্রস্তাবিত) ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আসন্ন বাজেটে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থাকছে এবার। যা ২০২১-২২ অর্থবছরের বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আকার আরও বাড়ছে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। কারণ বহু দিন উৎপাদনের চাকা ঘোরেনি। নিম্নআয়ের মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম ভোগান্তি মোকাবিলা করছে। বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এসএমই খাতে আরও অর্থায়ন করা হবে, কারণ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের।

বিজ্ঞাপন

২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটেও করোনাকে মাথায় রেখে নানা প্রণোদনা ও সাহায্য-সহায়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। সে কারণেই হয়তো দেশের অর্থনীতি এখনও টিকে থাকার লড়াইয়ে মোটামুটি একটা জায়গায় আছে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক।

প্রস্তাবিত এডিপিতে নতুন এডিপির বরাদ্দ মোট ১৫টি খাতে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া ১০টি খাতের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত বরাদ্দ পেয়েছে প্রায় ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি (২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৪৫ কোটি ৮৬৮ কোটি (২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে প্রায় ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি (১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ), শিক্ষা খাতে প্রায় ২৩ হাজার ১৭৮ কোটি (১০ দশমিক ২৯ শতাংশ), স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ১৭ হাজার ৩০৭ কোটি (৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ), স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে প্রায় ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি (৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি খাতে প্রায় ৮ হাজার ৫২৬ কোটি (৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ), কৃষি খাতে প্রায় ৭ হাজার ৬৬৫ কোটি (৩ দশমিক ৪০ শতাংশ), শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৮ কোটি (২ দশমিক ০৬ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা (১ দশমিক ৫৯ শতাংশ)। এখানে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, পল্লী উন্নয়ন খাতগুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারতো বলে আমরা মনে করি।

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় দেশ এখনও লকডাউন পরিস্থিতিতে আবারও সমস্যায়। এই অবস্থায় দেশের যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন সুপরিকল্পিত হয়, জনবান্ধব হয়। এই আমাদের প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন