চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকালেও সেবার শীর্ষে ‘নগদ’

করোনার অতিমারির প্রভাবে গত ছয় মাসে দেশে অনেক কিছুই যখন স্থবির হয়ে পড়েছে সে সময়েই সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়ার পর থেকে এই ছয় মাসে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে স্বাভাবিক রাখতে ‘নগদ’ বেশ কিছু সেবা নিয়ে হাজির হয়েছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এই মূলমন্ত্র ধারণ করে শুরু থেকেই কাজ শুরু করে ‘নগদ’। যে কারণে শুরুর দিকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে ৬০ লাখ টাকা প্রদান করা হয় দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। একই সঙ্গে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয় সর্বাত্মক ব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

টানা লকডাউনের কারণে কাজ হারানো ৫০ লাখ পরিবারকে এমএফএস-এর মাধ্যমে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ১৭ লাখই বিতরণ করা হয় ‘নগদ’-এর মাধ্যমে। এই সময়েই বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯০তম জন্মদিনে দুস্থদের মাঝে ভাতা বিতরণেও প্রধানমন্ত্রী বেছে নেন কেবল ‘নগদ’-কে। এছাড়া মানুষ যাতে ঘরেই থাকে তার অংশ হিসেবে ভিসা ও মাস্টারকার্ড থেকে ‘নগদ’ ওয়ালেটে টাকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে ‘নগদ’। করোনার পরীক্ষার ক্ষেত্রে লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করতে ফি প্রদান প্রক্রিয়া ডিজিটাল করে দেয় দেশের দ্বিতীয় সেরা এমএফএস অপারেটরটি। আর্থিক সেবার ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তর তাদের তিনটি ভাতা এমএফএস-এর মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। এখানেও ‘নগদ’-এর অবস্থান শীর্ষেই আছে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে কলেজ ভর্তি ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দুই লাখ গার্মেন্টস কর্মীদের বেতন-ভাতা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। করোনার সময়ে দুই হাজার ই-কমার্স ও পাঁচ হাজার মার্চেন্টকে ‘নগদ’ প্ল্যাটফর্মে তুলে আনা হয়েছে। তাছাড়া দেশের বৃহৎ এফএমসিজি কোম্পানিগুলোকে লকডাউনের সময় লেনদেনের বন্দ্যোবস্ত করে দেয় ‘নগদ’-ই। একইভাবে ওই সময়ে রবি-এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটকের এজেন্টরা যখন দৈনন্দিন লেনদেন করতে পারছিল না, তখনো সহায়তার হাত বাড়ায় রাষ্ট্রীয় এই ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্যোক্তাদের জন্য ‘নগদ’-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ সেবা ছিল বাজারে প্রচলিত রেটের চেয়ে মাত্র একতৃতীয়াংশ খরচে টাকা ক্যাশ-আউট করার ব্যবস্থা। এর আওতায় পাঁচ ধরনের উদ্যোক্তাদের হাজারে ৬ টাকায় ক্যাশ-আউট করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের ব্যবসার খরচ কমাতে সহায়তা করছে।

করোনার আগে থেকেই ‘নগদ’ আর্থিক সেবাকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তবে মার্চের শুরু থেকে এক্ষেত্রে গতি পেয়েছে বলে মনে করেন ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক।

কোভিড-এর ছয় মাসে ‘নগদ’-এর সেবা সম্পর্কে তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, “রাষ্ট্রীয় একটি সেবা দেশের জরুরি প্রয়োজনে সেরা সাফল্য নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেনি যে ‘নগদ’ এতটা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে। জনগণের ভালোবাসা এবং আস্থার কারণেই আমরা তাদের জীবনকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারছি। আমরা চাই সরকারের ভিশন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ‘নগদ’ নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।

চলতি সপ্তাহে ‘নগদ’-এর আয় থেকে ডাক বিভাগকে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার লাভ দেওয়া হয়েছে। মূলত করোনাকালের সেবা থেকেই এসেছে এই আয়। ডাক বিভাগের কোনো সেবা থেকে লাভ পাওয়ার ঘটনা গত ২০০ বছরে ডাক বিভাগের ইতিহাসে প্রথম।