চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকালেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর মনোযোগ প্রয়োজন

মিয়ানমারে জাতিসংঘের তদন্তকারী সংস্থার চলমান তদন্তে তদন্তকারীদের সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ‘গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ’ হওয়ার প্রমাণ প্রকাশ করেনি ফেসবুক। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভিযানের ফলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গাকে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের উপরে গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়। এরপরে ২০১৮ সালে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ইউএন মানবাধিকার কাউন্সিল আইআইএমএম গঠন করে। সেখানে তথ্য দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফেসবুক।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, সহিংসতা বাড়িয়ে তোলার মতো ঘৃণ্য বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে ফেসবুক মূল ভূমিকা পালন করেছিল। যদিও ফেসবুক বরাবরই বলেছে, তারা ঘৃণাত্মক বক্তব্য বন্ধ করতে কাজ করছে এবং সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সামরিক অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলেছে তবে তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে। অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুরোর মধ্যে সেদেশে ফেসবুক জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। এক্ষেত্রে ধারণা করা যাচ্ছে মিয়ানমার হয়তো এখানে কোনো কূটচাল নয়তো ফেসবুকের উপরে ব্যবসায়িক কোনো হুমকি দিয়ে রেখেছে ওই বিষয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এছাড়া করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই গত ২৬ জুন ২৬৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে একটি নৌকা মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে চাইলে মালয়েশিয়ার কোস্ট গার্ড তাদের বাধা দেয়। অন্য আরেকটি নৌকা ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে সমুদ্রে এক মাসের বেশি সময় অপেক্ষার পর ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা তাদের উদ্ধার করে। বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে প্রকাশ, ওইসময়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের এক টেলি সম্মেলনে সাগরে ভাসা রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশ কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার বজায় রেখে প্রত্যাখ্যান করে। ওই টেলিকনফারেন্সে মিয়ানমারের প্রতিনিধিও অংশ নিলেও তাদের অবস্থান ছিল রহস্যময়।

করোনার কারণে সারাবিশ্বে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকেও আমলে রাখতে হচ্ছে অতিরিক্ত কাজ হিসেবে। মিয়ানমারের আচরণ আর বিশ্বনেতৃত্বের নিরবতায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের পথ দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে বললে ভুল হবে না। এরই মধ্যে গত ২৯ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছেন। ওই ফোনালাপে তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের প্রত্যাবাসনে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে যুক্তরাজ্য। ১৭ জুলাই প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের ‘মানবাধিকার ও গণতন্ত্র-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া থেকে শুরু করে তাদের প্রত্যাবাসনে চেষ্টা করার বিষয়টি এই প্রমাণ করে যে, সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

আমরা মনে করি চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে। কূটনৈতিক তৎপরতা যেনো থেমে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজরও প্রয়োজন। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ এবিষয়ে সোচ্চার থাকবেন।