চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করুণ সমাপ্তি

গত সপ্তাহে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে হারের পর শেষ ম্যাচে নামার আগে জিদান নিজের খেলোয়াড়দের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘গত সপ্তাহের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় আর।’ কিন্তু সেই হুঁশিয়ারি কাজে দিল কোথায়? উল্টো অসংলগ্ন ও করুণ হারে শেষ হল রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাহীন মৌসুম। রোববার লা লিগার শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে রিয়াল বেটিসের কাছে জিদানের দল হেরেছে ২-০ গোলে।

লরেন মরেনো ও রিয়াল মাদ্রিদেরই সাবেক তারকা জেসে রদ্রিগেজের গোলে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করে বেটিস। এই ম্যাচসহ শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই হারল বিখ্যাত সাদা পোশাকধারীদের। আর চলতি মৌসুমে লিগে এটি তাদের ১২তম হার। ফলে যতদ্রুত সম্ভব এই মৌসুমটা ভুলে যেতে চাইবে রিয়াল।

বিজ্ঞাপন

এই হারে থার্ড বয় হিসেবে লিগ শেষ করল রিয়াল। ৩৮ ম্যাচে তাদের অর্জিত পয়েন্ট ৬৮। সমান ম্যাচ খেলে দুই নম্বরে থাকা নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৬। আর এক ম্যাচ কম খেলে শিরোপা জেতা ও শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৮৬।

পুরো ম্যাচে দল হিসেবে রিয়ালে অসংলগ্নতার দেখা মেলে ম্যাচের শুরু থেকেই। রিয়াল জার্সিতে অলিখিত শেষ ম্যাচেও শুরুর একাদশে জায়গা পাননি গ্যারেথ বেল। তবে এই একই ঘটনা অবশ্য কেইলর নাভাসের ক্ষেত্রে ঘটেনি। তিনিও নতুন মৌসুমে ক্লাব ছাড়বেন। বেলকে বসিয়ে রাখার ম্যাচে মিডফিল্ডে ফেডেরিকো ভালভার্দের সঙ্গে একা ছিলেন মার্কোস লরেন্তো। আক্রমণে করিম বেনজেমার সঙ্গে ছিলেন ব্রাহিম ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

আগের ম্যাচে সোসিয়েদাদের কাছে হারের পর একাদশে ৬ পরিবর্তন এনেছিলেন জিদান। রাফায়ের ভারানে, লুকা মদ্রিচ, ভিনিসিয়াসরা ফেরেন একাদশে। ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে একবারই মাত্র নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। কিন্তু করিম বেনজেমার শট বারপোস্টে লেগে ফেরত আসলে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি মাদ্রিদের। বেটিস অবশ্য আরও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছিল তখন। লরেন মরেনো নাভাসের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ানে অনেক সময় পেয়েও বল মেরেছিলেন বাইরে দিয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই ভুলটা আর মনে রাখার কথা না মরেনোর।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল হজম করে রিয়াল। ৬১ মিনিটে প্রথম গোল করেন লরেন মরেনো। ৭৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন সাবেক রিয়াল স্ট্রাইকার রদ্রিগেজ। কেইলর নাভাস বাধা হয়ে না দাঁড়ালে আরও বড় ব্যবধানে হারতে পারত জিদানের দল।

নাভাস অবশ্য প্রথমার্ধেও খেলেছেন দুর্দান্ত। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের হাত তুলে বিদায় জানিয়েছেন। সবার শেষে মাঠ ছেড়েছেন তিনিই। কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়, তবে বার্নাব্যুতে হয়ত শেষ ম্যাচটাও খেলে ফেললেন রিয়াল মাদ্রিদের কোস্টারিকান গোলকিপার।

জিদান যখন প্রথমবারের মতো টানা দুই লা লিগা ম্যাচে হারের ক্ষণ গুনছিলেন, অন্য ডাগআউটে তখন স্বভাবতই ছিল উল্লাস। বেটিস ম্যানেজার কিকে সেতিয়েনের ম্যাচ শেষে একটা রেকর্ডও হয়ে গেছে বার্নাব্যুতে। ন্যু ক্যাম্পে বার্সাকে হারানোর পর হারালেন রিয়াল মাদ্রিদকেও। এক মৌসুমে এই দুই মাঠে জয় পাওয়া শেষ ম্যানেজার গ্রেগরিও মানজানো, ২০০২-০৩ মৌসুমে মায়োর্কার হয়ে শেষ এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।

ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিকটু চিত্র জিদান-বেলের। ম্যাচের শেষদিকে ওয়েলস তারকার সঙ্গে হাত মেলাতেও অস্বীকৃতি জানান ফরাসি কিংবদন্তি। শুধু কোচই নন, মাঠ ছেড়ে টানেলে প্রবেশের সময়ও দলের অন্য কেউ বেলের দিকে ফিরে তাকাননি।

ম্যাচ শেষে জিদান বলেছেন, এটা এমন নয় যে, রিয়াল জিততে চায়নি, কিন্তু আমার কাজটা করতে পারিনি।