চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন

প্রখ্যাত কথাশিল্পী একুশে পদক প্রাপ্ত লেখক হাসান আজিজুল হক আজ তার রাজশাহীর বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা অসুখে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৯ টায় রাজশাহীর বাসায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। তারপর থেকে তিনি রাজশাহী অবস্থান করছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখি করে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিগণিত। ষাটের দশকে আবির্ভূত এই কথাসাহিত্যিক তার সুঠাম গদ্য এবং মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য প্রসিদ্ধ। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তার গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। রাঢ়বঙ্গ তার অনেক গল্পের পটভূমি। আগুনপাখি (২০০৬) হক রচিত প্রথম উপন্যাস। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৯৯ সালে একুশে পদকে ও ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

তার অন্যতম সাহিত্যকীর্তিগুলো হল ছোট গল্প গ্রন্থ সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪), আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭),জীবন ঘষে আগুন, (১৯৭৩) নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫) পাতালে হাসপাতালে (১৯৮১) আমরা অপেক্ষা করছি (১৯৮৮) রাঢ়বঙ্গের গল্প (১৯৯১) রোদে যাবো (১৯৯৫) মা মেয়ের সংসার (১৯৯৭) বিধবাদের কথা ও অন্যান্য গল্প (২০০৭)। আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান ও শামুক নামে তিনটি উপন্যাস লিখেছেন। এই অসামান্য গদ্যশিল্পী তার সার্বজৈবনিক সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে “সাহিত্যরত্ন” উপাধি লাভ করেন।

১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামের সম্ভান্ত্র এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। তার পঞ্চাশটিরও বেশি কবিতা, ছোটগল্প ও উপন্যাস রয়েছে।

বিজ্ঞাপন