চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কত হাত বিচ্ছিন্ন হলে বাস চালকদের রেষারেষি থামবে?

দেশের প্রায় সব সড়ক-মহাসড়কে বাস চালকেরা যে ভয়ঙ্কর রেষারেষি করে থাকেন, তা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল রাজধানীর তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর। ওই ঘটনা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে বাস কোম্পানির গড়িমসির কারণে বিষয়টির এখনও মীমাংসা হয়নি। এর মধ্যেই আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজশাহীতে বাসের চাপায় অন্য বাসের যাত্রী ফিরোজ নামের এক কলেজ ছাত্রের ডান হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফিরোজ রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিরোজ বগুড়া থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে বাসে চড়ে রাজশাহী ফিরছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাসের জানালা দিয়ে ফিরোজের হাত বাইরে থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য আরেকটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ফিরোজের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

রাজীবের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশনা এমনকি কঠোর অবস্থানের পরও বাস কোম্পানির গড়িমসি আমরা লক্ষ্য করেছি। ওই ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ নানা বিষয়ে হাইকোর্টকে উষ্মা প্রকাশ করতে হয়েছে। পরিবহন কোম্পানির এমন গাফিলতির কারণেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

এর আগেও নানা সময়ে চালকদের মাদক গ্রহণ, অদক্ষতা এবং নিয়ম না মানার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। হাইকোর্ট এ বিষয়ে করণীয় স্মরণ করিয়ে পরিবহন মালিক এবং বিআরটিএসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়া স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এরপরও এসব নির্দেশনা পালনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। তাই এসব বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে আমরা মনে করি।

রাজশাহীর এই ঘটনার শিকার শিক্ষার্থী ফিরোজ নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে গন্তব্যস্থলে ফিরছিলেন। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা। এতে স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। এই মুহূর্তে দ্রুত ফিরোজের চিকিৎসার খরচসহ সার্বিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে করতে হবে। এর পাশাপাশি এ ঘটনায় দোষী চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Bellow Post-Green View