চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কচুরিপানা খেতে বলিনি: পরিকল্পনামন্ত্রী

কচুরিপানা নিয়ে তুমুল বিতর্কের পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, আমার বক্তব্যকে গণমাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করতে বলেছি। খেতে বলিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাশেষে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি কি সবাইকে কচুরিপানা খেতে বলবো? আমি কি বাংলার মানুষ নই? আমার মা-বাবা কি বাংলার মানুষ নয়? এটা কিভাবে আমি বলি?’’

বিজ্ঞাপন

‘‘আপনাদের সামনে কথা বলতে ভয় লাগে আমার। তবে সঠিকভাবে বক্তব্য বুঝতে হবে। গবেষণার আওতা সীমাহীন। গবেষণার কোনো সীমিত পরিসর থাকতে পারে না? আমি বলেছিলাম কচুরিপানা নিয়ে গবেষণা করেন। খেতে বলিনি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘সে অনুষ্ঠানে কৃষি গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। আমি তাদের বললাম কচুরিপানা কি খাওয়া যেতে পারে? এতে কোনো ক্ষতি আছে?’

বিজ্ঞাপন

‘‘তখন কে জানি একজন বললেন, গরু তো খায়। তখন আমি বললাম, গরু খেতে পারলে আমরা পারবো না কেন?’’

এম এ মান্নান বলেন, ‘থাইল্যান্ড বিভিন্ন কৃষি পণ্য নিয়ে গবেষণা করছে। যেমন তারা পেয়ারা থেকে বিচি দূর করে ফেলছে। সেই পেয়ারা আমরা খাচ্ছি এখন। সেইজন্য বলেছি, আমাদের বাংলাদেশে কি এসব করা সম্ভব না? সেই প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম, গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করা যায় কি না। কাঁঠালের আকার ছোট করা যায় কি না। সেসব নিয়ে গবেষণা করতে বলেছি।’

গতকাল সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কাঁঠালের আকার অনেক বড় হওয়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনারা কাঁঠালের আকারটা আরেকটু ছোট কীভাবে করা যায়, তা গবেষণা করতে পারেন।’

সেসময় তিনি হেসে হেসে বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো কচুরিপানা নিয়ে কিছু করা যায় কীনা? আমি তো গ্রামের ছেলে। আমাদের এলাকায় নদীগুলো সব কচুরিপানায় ভর্তি। কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কোনও মতে? গরু খেতে পারলে আমরা কেন পারবো না?’

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে।