চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কক্সবাজার সৈকতে ২০২০ সালকে বিদায়

করোনা মহামারি উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতে লাখ পর্যটক এর উপস্থিতিতে বিদায় জানানো হলো ২০২০ সালকে। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সেখানে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

২০২০ সালকে বিদায় এবং ২০২১ সালকে স্বাগত জানাতে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অনেকে আগেভাগে এসে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল-মোটেলে অবস্থান করছে। শীতের হিমেল হাওয়া ও শিশির ভেজা বালিয়াড়িতে করোনাময় পুরনো বছরের শেষ সূর্যাস্তের যবনিকা ঘটার মহেন্দ্র ক্ষণে এসেছেন তারা। করোনা মুক্ত নতুন বছরের ছোঁয়ায় জেগে উঠার অদম্য প্রত্যয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মনের আনন্দে। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে এবার সৈকতে কোন উৎসব আয়োজনের ব্যবস্থা নেই। আতশবাজি সহ সকল উন্মুক্ত আয়োজনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বের দীর্ঘত মসমুদ্র সৈকতের কারণে অনেকের কাছেই প্রিয় পর্যটন শহর কক্সবাজার। সমুদ্র সৈকতের লোনা জলে গা ভাসানো আর বালুকা বেলায় দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সুর্যাস্ত দেখা আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। ২০২০ সালটি করোনায় দু:সময় কাটলেও এবারও ব্যতিক্রম হয়নি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। করোনাময় পুরনো বছরের বিদায়ি সূর্যাস্ত দেখতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমিয়েছে লাখো পর্যটক। যেন করোনার ভয়াবহতা ভুলতে বসেছে সকলে।

কক্সবাজারে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউজের প্রায় কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে এক সপ্তাহ আগে । করোনাময় পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে শীতের হিমেল হাওয়া ও শিশির ভেজা বালিয়াড়িতে বছরের প্রথম সুর্যোদয় অবলোকন করবে এসব পর্যটক। করোনামুক্ত নতুন বছরের ছোঁয়ায় জেগে উঠার অদম্য প্রত্যয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মনের আনন্দে। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রফিক আল ইসলাম, কুলসুম খাতুন, মরিয়ম বেগম বলেন, অনেকদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ।তাই করুনার ঝুঁকির মাঝেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৈকতে বছরের শেষ সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখতে এসেছি।

ঢাকার গোপীবাগ থেকে আসা পর্যটক হীরা, রানী ও মেরি বলেন, অনেকদিন বাড়িতে বন্দি ছিলাম। আর ভালো লাগছে না। তাই কক্সবাজার ছুটে এলাম পুরনো বছরকে বিদায় অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাতে। এখানে এসে দেখলাম হোটেলগুলোতে কোন আয়োজন নেই।

ডুমুরিয়া থেকে আসা শেখ ফরিদ ও রহিমা আফরোজ বলেন,মনে করছিলাম পার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে পার্টি থাকবে। কিন্তু এখানে এসে দেখছি কিছুই নেই।

করোনাময় ২০২০ সালের সব দু:সময়ের স্মৃতি ধুয়েমুছে ২০২১ সালের উদীত সূর্যদয়ে একটি নতুন পৃথিবী দেখার প্রত্যাশায় সৈকতে আসা পর্যটকরা।

বিজ্ঞাপন

সিলেটের বালাগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার অশুভ শক্তি যেন শান্তির শুভ শক্তির কাছে পরাভূত হয়। সবার জন্য শান্তির বারতা নিয়ে আসুক নতুন বছর। এমন প্রত্যাশা আমাদের।

সিলেট থেকে আসা দম্পতি রায়হান ও মুরজিয়া বলেন, নতুন বছর যেন করোনা মুক্ত বাংলাদেশ নিয়ে আসে করোনা মুক্ত পৃথিবী নিয়ে আসে সেই প্রত্যাশা।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম বলেন, সমুদ্র সৈকত সহ পর্যটন স্পটগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে।

কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল টিম, পোশাকধারী পুলিশ ও কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষনিক নিয়োজিত রয়েছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ জিল্লুর রহমান।

পুরোনো বছরের বিদায়ের সাথে সাথে করোনারও বিদায় দিয়ে নতুন বছরে নতুন পৃথিবী দেখার প্রত্যাশা করছে বলে জানালেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। সবগুলো পয়েন্টে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।

কক্সবাজার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কৈইয়ুম বলেন, এবছর থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কক্সবাজারের কোন হোটেলে কোন আয়োজন নেই। করোনা মহামারিতে আমরা হোটেল মালিকরা দিশেহারা। তারপরও কোনো রকম ব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। হোটেলে মুনাফা করার চেয়ে এই মুহূর্তে ব্যবসা ধরে রাখাটাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব ওমর সুলতান বলেন, এবার অনেকগুলো হোটেলে বুকিং ভালো হয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে ব্যবসা তেমন হয়নি।

হোটেল অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, আমরা পর্যটকদের সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছি। মেনে চলার জন্য বারবার হোটেল থেকে বলা হচ্ছে। তারপরও অনেক পর্যটক সৈকতে ঘোরাফেরা করছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন নিজেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সহ পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করে গণমাধ্যমকে বলেছেন,এবার পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে কোন বর্ষবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন করুনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

করোনাময় পুরাতন বছরের দুঃখ কষ্ট ঝির্ণ-ঝরাকে ঝেড়ে ফেলে শিশির ভেজা বালিয়াড়িতে নতুন বছরের রঙে নতুন স্বপ্নে নিজেদের রাঙিয়ে নিতে এসব পর্যটকরা এসেছেন সাগর পাড়ে। করোনার অশুভ শক্তি যেন শান্তির শুভ শক্তির কাছে পরাভূত হয়। সবার জন্য সুস্থ শান্তির বারতা নিয়ে আসুক নতুন বছর। এমন প্রত্যাশা সকলের।