চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কক্সবাজারে যেখানে এসে মুগ্ধ বিদেশি ২৬ সাংবাদিক

সবুজে ভরা পুরো বাংলাদেশ ঘুরবেন বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসেন ২৬ ভিনদেশি একদল সাংবাদিক। তারা ঠিক করেছিলেন, গোটা দেশের বিশেষ দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করবেন। কিন্তু কক্সবাজার মারমেইড বীচ রিসোর্টে এসে এমনই মুগ্ধ হলেন, পারলে এখানেই সফরের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন তারা!

‘মারমেইড, কক্সবাজারের সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। আন্তরিক আতিথেয়তায় মোড়ানো প্রেমময় একটি জায়গা। খাবার ও নানা সুযোগ-সুবিধায় এটি অভিজাত ও অনন্য। সাঁতারের জন্য স্বচ্ছ পানি। নৌকা ভ্রমণের জন্যও অসাধারণ। আমি সত্যিই ভাগ্যবান এখানে আসতে পেরে।’

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার, পেঁচার দ্বীপের মারমেইড বীচ রিসোর্টে বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে কথাগুলো রীতিমতো জোর দিয়ে বলছিলেন পশ্চিমা এক সাংবাদিক।

তিনি একা নন মারমেইড আর গোটা কক্সবাজার ঘিরে এমনই মুগ্ধতা ছিল বাকি সব ভিনদেশি সাংবাদিকের মাঝে। মারমেইডে যাকে বলে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন তারা। কেউ পা রেখেই সোজা নেমেছেন সাগরে গা ভেজাতে। কেউ ছিলেন সৈকতে খেলাধুলা আর হুল্লোড়ে ব্যস্ত। কেউ বেরিয়েছেন নৌ বিহারে। তারপর যাকে বলে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া। এমন দিন আদতেই খুব কমই আসে জীবনে!

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আমন্ত্রণে ১০টি দেশের এই ২৬ জন সাংবাদিক ও ট্যুর অপারেটর এসেছেন বাংলাদেশে। জাপান, থাইল্যান্ড, চীন, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, লেবানন, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও স্পেন থেকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। গত ১৩ এপ্রিল তারা এদেশে এসেছেন।

এর মধ্যেই তারা ঘুরে ফেলেছেন কক্সবাজারসহ দেশের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। কিন্তু কক্সবাজার ঘুরে যারপরনাই বিমোহিত তারা। ১২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বালিয়াড়ি সৈকত ও উত্তাল জলরাশি দেখে তাদের বক্তব্য, কেবল কক্সবাজার আর মারমেইডের টানেই বাংলাদেশে বার বার আসা যায়।

বিজ্ঞাপন

‘আমি অবশ্যই বলব, চমৎকার। বাংলাদেশ এরকমই হওয়া উচিত’। মারমেইডের পরিবেশ বান্ধব আতিথেয়তার কথা বলতে গিয়ে বলছিলেন আরেক সফরকারী সাংবাদিক।

‘মারমেইড বাংলাদেশের ব্যতিক্রম জায়গাগুলোর মধ্যে একটি। এর পরিবেশবান্ধব ও টেকসই থিমটি আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশে যেটি দুর্লভ। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এই পথ অনুসরণ করা উচিত’ পাশ থেকে যোগ করেন আরেক সাংবাদিক।

দেশে ফিরে নিজ নিজ সংবাদমাধ্যমের পাঠক-দর্শকদের জন্য কক্সবাজার আর মারমেইডের কথা আলাদা করে জানাতে ভুলবেন না বলেও জানান তারা।

ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা. ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘ট্যুরিজমের প্রচার হলেই পর্যটক বাড়বে। এজন্য আমরা ১০টি দেশের ২৬ জন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা বাংলাদেশে ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে তাদের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে খবর প্রকাশ করবেন। এর মধ্য দিয়ে সেসব দেশে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এর সুফল পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী”।

মারমেইড ইকো ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ বলেন, ‘পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে যদি আমরা উন্নয়ন ঘটাতে পারি তাহলে সেটি হবে অনেক বেশি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন। আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, বাংলাদেশের ইকো ট্যুরজমের এই নিজস্বতা নিশ্চিতভাবে আমাদের দেশকে আরো অনেকদুর এগিয়ে নেবে’।

Bellow Post-Green View