চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কক্সবাজারে পুলিশ ও বিজিবি’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ভাইসহ নিহত ৪

কক্সবাজারে একাধিক গোলাগুলির ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনায় মারা গেছেন ২ ভাই। উখিয়া উপজেলার বালুখালীর রহমত বিল এলাকায় বিজিবি’র সাথে গোলাগুলিতে একজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে কক্সবাজার শহরের ডায়বেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট থেকে গুলিবিদ্ধ এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ‘হ্নীলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ এলাকায় ‘মাদক মামলার আসামি’ গ্রেপ্তার করতে গিয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুই সহোদর আব্দুস সালাম (২৬) ও আব্দুর রহমান (৩০) নিহত এবং পুলিশের তিন সদস্য এসআই মো. কামরুজ্জামান এবং কনস্টেবল মোহাম্মদ হেলাল ও মোহাম্মদ রাসেল আহত হয়েছে।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র ও গুলি।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ভোর রাতে হ্নীলায় মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র মাদক মামলার আসামিসহ তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে ২ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে পাওয়া যায় দেশিয় তৈরী ২ টি বন্দুক, ২ টি ছোরা, ২ টি কিরিচ, ৭ টি গুলি ও ১২ টি খালি গুলির খোসা।

ওসি বলেন, গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি প্রদীপ বলেন, তারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের প্রত্যেকের নামে ৬টির অধিক করে মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীর রহমতের বিল নামক স্থানে বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন মোঃ নূর কবীর নামের এক রোহিঙ্গা।

নিহত নুর কবীর মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে থ্যাইংখালী বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের শিবির-১১, ব্লক সি-৯ এর বাসিন্দা।

বিজিবির কক্সবাজারস্থ ৩৪ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর আশরাফ উল্লাহ রনি জানান, ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এর নেতৃত্বে পালংখালী ইউনিয়নের রহমতের বিল নামক স্থানে চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে কিছু লোকজন মিয়ানমার সীমান্ত হতে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে অজ্ঞাত লোকজন তাদের হাতে থাকা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বিজিবি টহল দলের দিকে এগিয়ে আসে এবং বিজিবি টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এ সময় বিজিবি পাল্টা গুলি শুরু করে।

বিজিবি’র এই কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে বিজিবি’র ২ জন সদস্য আহত হয়। পরে উখিয়া থানার পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশিয় তৈরী একনলা বন্দুক, ১৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে রমজান আলী (৪০) নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তি কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ইসলামাবাদ লারপাড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দাকার জানান, নিহত রমজান চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ৬টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইয়াবা বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা পাওয়া গেছে।

Bellow Post-Green View