চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কক্সবাজারে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি ও বীজ দিল এফএও-আইওএম

করোনাভাইরাস মহামারীতে যৌথ জরুরি কার্যক্রমের অংশ হিসাবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) কক্সবাজারের স্থানীয় কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধানের বীজ সহায়তা প্রদান করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আজ সোমবার ওই সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করে জাতিসংঘের সংস্থা দুটি।

বিজ্ঞাপন

পাওয়ার টিলার, থ্রেসার মেশিন এবং ডিজেল জেনারেটর সমন্বিত এসব যন্ত্রপাতি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ২৫টি কৃষক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ৫০০ কৃষককে উপকৃত করবে বলে জানায় তারা। এই জরুরী সহায়তা করোনাভাইরাস মহামারী এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাব মোকাবেলা করা কৃষকদের অনেক প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, এ বিষয়ে সহায়তা করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

এফএও-এর বাংলাদেশের প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন বলেন, “জাতিসংঘের দুটি সংস্থার এই যৌথ প্রচেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সময়ে কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি করতে সরকারের প্রচেষ্টাকে সাহায্য করবে। আমরা আজ ৫০০জন কৃষকের জন্য যন্ত্রপাতি বিতরণ করছি। এসব যন্ত্রপাতি কৃষকদের কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে কারণ তারা শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে খুব বেশি নির্ভরশীল হবে না। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কার্যকরভাবে আরও বেশি খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াাদী খাদ্য সুরক্ষার চাবিকাঠি”।

বিজ্ঞাপন

আইওএম কক্সবাজারের ট্রানজিশন এন্ড রিকভারি ডিভিশনের প্রধান প্যাট্রিক শেরিগনন এই সমন্বিত কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেনঃ “রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই আইওএম এবং এফএও সমন্বিতভাবে বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করছে। এই দুই সংস্থার যৌথ কার্যক্রম সারা বিশ্বেই প্রশংসিত। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য এমন সহায়তা অব্যাহত রাখব এবং আমাদের যৌথ কার্যক্রমের পরিধি আরো বাড়াবো”।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, “কোভিড-১৯ লকডাউন পরিস্থিতে স্থানীয় কৃষকদের কৃষিক্ষেত্রের প্রয়োজন মেটানোর এই যৌথ প্রয়াসকে সরকার স্বাগত জানায় । এই সহায়তা উপজেলার খাদ্য সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করবে।”

উখিয়ার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান বলেন, “কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রাদি দিয়ে সহায়তা করা উপজেলার অন্যতম সফল জীবিকা সংস্থান কর্মসূচীর একটি। আমি আশা করি এই দৃৃষ্টান্তমূলক কর্মসূচীটি কমিউনিটিভিত্তিক কৃষি সহায়তার উদাহরণ হিসাবে প্রান্তিক কৃষকদের উপকৃত করবে যা কেবল এই জনগোষ্ঠীই নয় প্রতিবেশীদেরও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে”।

যুক্তরাজ্য এই কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণে সহায়তা করেছে এবং কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এফএও-কে অর্থায়ন করেছে কানাডা, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ড। এছাড়া পাশাপাশি এফএও প্রায় ২৪,০০০ কৃষককে ধানের বীজ এবং গৃহস্থালী হাইজিন পণ্য এবং আইওএম প্রায় ৪৮,০০০ কাপড়ের মাস্ক প্রদান করবে। কাপড়ের মাস্ক এবং হাইজিন পণ্যের মধ্যে হাতধোয়ার সাবানও আছে যার মাধ্যমে কৃষকগণ মাঠে কাজ করার পর হাত পরিষ্কার করতে পারেন যেন কোভিড-১৯-আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

এফএও এবং আইওএম রোহিঙ্গা এবং কক্সবাজারসহ সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে বৈশ্বিক এবং জাতীয় পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করে চলেছে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে এই দুটি সংস্থা ‘সেইফ এক্সেস টু ফুয়েল এন্ড এনার্জি প্লাস লাইভলিহুডস’ (সেইফ প্লাস) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।