চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওয়ানডের শোধ টি-টুয়েন্টিতে তুললো ভারত

অস্ট্রেলিয়ায় টানা দুই ওয়ানডে হেরে করোনা পরবর্তী মাঠে হয়েছিল ভারতের। ওই সিরিজ হারানোর শোধটা ২০ ওভারে এসে নিলেন বিরাট কোহলিরা। জোড়াতালির অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জিতেছে সফরকারীরা।

সিডনিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে প্রায় নতুন এক দল নিয়েই ভারতের বিপক্ষে ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। তাতেও কাজ হয়নি, দুই বল আগেই লক্ষ্য হেসেখেলে পার করেছে ভারত।

বিজ্ঞাপন

সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে দল সাজাতেই হিমশিম খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগের ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ, ম্যাচের আগে জানা গেল মাঠে নামা হচ্ছে না তার। আগের ম্যাচে চোট কেড়ে নিয়েছিল পেসার প্যাট কামিন্সকে, এই ম্যাচে পাওয়া যায়নি আরেক পেসার মিচেল স্টার্ককে। নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতার জন্য তিনি টি-টুয়েন্টি সিরিজে খেলছেন না। সময় কাটাবেন পরিবারের সঙ্গে। পেসার ড্যানিয়েল সামসকে জায়গা করে দিয়ে বিশ্রাম দেয়া হয় জশ হ্যাজেলউডকে। একাদশে ঢোকেন আরেক পেসার অ্যান্ড্রু টাই।

ফিঞ্চের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব পাওয়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ম্যাথু ওয়েড নিজেই নেমেছেন ওপেনিং করতে। নেমেই করেছেন ফিফটি। ৩২ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ৫৮ রানের ইনিংসটি অজিদের সর্বোচ্চ।

ওয়ানডেতে ভালো খেললেও প্রথম টি-টুয়েন্টিতে নামের সুবিচারে ব্যর্থ ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। এবারের আইপিএলেও খুব একটা ভালো খেলেননি সাবেক অজি অধিনায়ক। দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি না পেলেও ৩৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে বড় রানের পথ গড়ে দিয়ে গেছেন তিনি। সেটির উপর দাঁড়িয়ে ২২ রানে ম্যাক্সওয়েল ও ২৬ রানে মোয়েজেস হেনরিক্স দলকে এনে দেন দুইশো ছুঁইছুঁই সংগ্রহ।

বিজ্ঞাপন

নিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতেও আলো ছড়িয়েছেন ভারতের পেসার টি নটরাজন। পুরো ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচ করে পেয়েছেন আর্চি শর্ট ও হেনরিক্সের উইকেট। বেশ খরুচে বল করেছেন গত ম্যাচে রবীন্দ্র জাদেজার কনকাশন বদলি যুজবেন্দ্র চাহাল, ৫১ রান খরচায় স্মিথের উইকেট গেছে তার পকেটে। ৩৯ রানে শার্দুল ঠাকুর নিয়েছেন বাকি উইকেটটি।

রান বড় হলেও অভিজ্ঞ পেসারদের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সামস ও শন অ্যাবটকে দিয়ে বোলিং শুরু করালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সারতে তৃতীয় ওভারে ম্যাক্সওয়েলের হাতে বল তুলে দেন ওয়েড। সেই ওভারে ১৯ তুলে রানের গতি বাড়িয়ে তোলেন ভারতের দুই ওপেনার শেখর ধাওয়ান ও লোকেশ রাহুল।

২২ বলে ৩০ করা রাহুলকে কাভারপয়েন্টে মিচেল সোয়েপসনের ক্যাচ বানিয়ে ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন টাই। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে ৩৯ রান তুলে ফিফটি এনেছেন ধাওয়ান। ৩৬ বলে ৫২ করে অ্যাডাম জাম্পার বলে সোয়েপসনের ক্যাচ হয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার।

রাহুল-ধাওয়ানরা ফিরে গেলে অজিদের আসল বিপদ হয়ে ঝুলে ছিলেন কোহলি। ২১ বলে ৪০ করে যখন ম্যাচকে আস্তে আস্তে হাতের মুঠোয় পোরার অপেক্ষায় ভারত অধিনায়ক, তখন তাকে ফেরান অভিষিক্ত পেসার সামস। অফস্টাম্পের বাইরের লাফিয়ে ওঠা বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ওয়েডের কাছে ক্যাচ দেন ভারত অধিনায়ক।

কোহলি যখন ফিরে যাচ্ছেন ভারতের প্রয়োজন ছিল ২৩ বলে ৪৬ রান। শ্রেয়াস আয়ারকে নিয়ে দুই বল আগেই সেই ম্যাচটা শেষ করে আনেন হার্দিক পান্ডিয়া। শেষ ১২ বলে ২৫ রান দরকার থাকলে টাই ও সামসের করা ১০ বলে ম্যাচ বের করে নেন পান্ডিয়া। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২২ বলে ৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি, নিজের জন্মদিনে ৫ বলে ১২ রানের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন আয়ার।