চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওসি প্রদীপসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে আরও দু’টি হত্যা মামলা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ ও মোঃ আজিজ নামের দুই ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে একদিনে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মোহাম্মদ আজিজের মা হালিমা খাতুন ও নুর মোহাম্মদের স্ত্রী লাইলা বেগম বাদী হয়ে টেকনাফের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোঃ হেলাল উদ্দিনের আদালতে পৃথকভাবে এ মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

হালিমা খাতুনের মামলায় ওসি প্রদীপসহ ১৬ জন এবং লাইলা বেগমের মামলায় ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিহত নুর মোহাম্মদ টেকনাফ সদরের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা এবং মোঃ আজিজ একই ইউনিয়নের ডেইল পাড়ার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাদী পক্ষের আইনজীবী নূর হোসেন নাহিদ মোঃ মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, দুটি মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে প্রধান আসামী করা হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি মামলার এজাহার দুটি আমলে নিয়েছেন আদালত এবং ওই ঘটনা সংক্রান্ত অন্য মামলা হয়েছিল কিনা নিহত দুজনের ময়না তদন্ত হয়েছিল কিনা তা আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতকে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

নিহত মো: আজিজের মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর টেকনাফ থানার একদল পুলিশ মোঃ আজিজ, নুর হাসান ও আবুল খায়ের নামের তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মোঃ আজিজের পরিবার থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করে ওসি প্রদীপসহ অন্যরা। না দিলে আজিজকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এতে নিরুপায় হয়ে বিভিন্নভাবে ৫০ হাজার টাকা পুলিশকে দেয় আজিজের পরিবার। কিন্তু ১৯ অক্টোবর রাতে টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া নদীঘাট এলাকায় আজিজকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়।

নিহত নূর মোহাম্মদের মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৯ মার্চ বীজ ও সার আনতে কৃষি অফিস গেলে সেখান থেকে কৃষি সরঞ্জাম ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তার পরিবার থেকে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন ওসি প্রদীপসহ অন্যরা। না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে মারা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্নভাবে যোগাড় করে পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ২১ মার্চ রাতে স্ত্রী লায়লা বেগম নুর মোহাম্মদকে থানা থেকে বের করে মেরিন ড্রাইভ সড়কের রাজারছড়া এলাকায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে নুর মোহাম্মদকে কয়েকজন পুলিশ তুলি ঝাউবাগানে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে।