চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওমিক্রন মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি কোথায়

বিশ্ববাসী যেমনটা ভেবেছিল তেমনটা হয়নি ২০২২ সালের খ্রিস্ট্রীয় নতুন বছরের সূচনা। টানা দুই বছর বিশ্বব্যাপী করোনাঘাত মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। সারা পৃথিবী এক ধরণের নিশ্চল হয়ে পড়েছিল। ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে মৃত্যুর সংখ্যা কমলে সবাই আশাবাদী হয়ে উঠে যে বিশ্ব বুঝি তার পুরনো রূপে ফিরবে। সে আশায় গুঁড়েবালি দিয়ে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রকোপ বিশ্বজুড়ে আবারও নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে: করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনকে কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করার কোন কারণ নেই। ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন বলে সতর্ক করেছে তারা। ডব্লিউএইচওর প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে সতর্ক করেন।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এটি রেকর্ড সংখ্যক। গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

এতদিন বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন: করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ডেল্টার চেয়ে বেশি সংক্রামক হলেও তা কম প্রাণঘাতী। তবে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান সতর্ক করে বলেছেন: করোনার অতিসংক্রামক ধরন ওমিক্রনকে কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করার সুযোগ নেই।

সত্যিকার অর্থে এত দ্রুত সময়ে এত বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যে তা সামাল দিতে বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চেয়েছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রতিটি দেশ তাদের জনসংখ্যার ১০ শতাংশকে আর ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ৪০ শতাংশকে টিকা দেয়ার কাজ শেষ করবে। ২০২১ সালের শেষ নাগাদ বেঁধে দেওয়া সে লক্ষ্য অনেক দেশই পূরণ করতে পারেনি। ডব্লিউএইচওর ১৯৪টি সদস্যদেশের মধ্যে ৯২টি দেশই ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ৩৬টি দেশ ১০ শতাংশ মানুষকেও টিকা দিতে পারেনি। এর বড় কারণ প্রয়োজনীয়সংখ্যক টিকার ডোজ হাতে না পাওয়া। কোভিডের কারণে মৃত্যু ও বিপর্যয় ঠেকাতে ২০২২ সালে আরও বেশি নিরপেক্ষভাবে সব দেশের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও প্রধান। তিনি চান, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিটি দেশ তাদের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশকে টিকা দেয়ার কাজ শেষ করবে। কোটি কোটি মানুষকে অরক্ষিত রেখে গুটিকতক দেশে বুস্টারের পর বুস্টার ডোজ দেয়া হলে তাতে মহামারির অবসান হবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই হুঁশিয়রি আর প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে একদিনে এক লাখের ওপরে ওমিক্রন রোগি শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কী ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে এটা নিয়ে এখনও জনগন অস্পষ্টতায় আছে। ১৫ নির্দেশনা দিয়েই কী শেষ হয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব? আমরা আশা করছি সরকার দ্রুতই করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। ইতিপূর্বে করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এখন সেই সক্ষমতা আবারও প্রমাণের সময় এসেছে।

বিজ্ঞাপন