চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওমানকে হারিয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

হারের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার আশা টিকিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। বাঁচা-মরার ম্যাচে স্বাগতিক ওমানকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল হারিয়েছে ২৬ রানে। স্লগ ওভারে দারুণ বোলিংয়ে জয় তুলে মাঠ ছাড়ে টিম টাইগার্স।

মাসকাটের আল আমেরাত স্টেডিয়ামে ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ওমান তোলে ১২৭ রান। মোস্তাফিজুর রহমান খরুচে থাকলেও শিকার করেন সর্বোচ্চ চার উইকেট। ৪ ওভারে বাঁহাতি পেসার দেন ৩৬ রান।

স্নায়ুর কঠিন পরীক্ষা গেছে টাইগার খেলোয়াড়দের। পুরো ম্যাচেই মাহমুদউল্লাহর চোখেমুখে দেখা গেছে আতঙ্কের ছাপ! জিতেও অবশ্য উদযাপন করেনি দল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারায় এ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের।

শেষ ৫ ওভারে ওমানের দরকার ছিল ৫৪ রান, হাতে ৬ উইকেট। তখনই লাগাম টেনে ধরেন সাইফউদ্দিন। ১৬তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে তুলে নেন সন্দীপের (৪) উইকেট। সাকিব পরের ওভারে ৩ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট, জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও।

শেষ ৩ ওভারে যখন ৪৭ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ স্বাগতিকদের সামনে, মোস্তাফিজ ৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়ে স্বস্তির বাতাস বইয়ে দেন। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে স্বাগতিকরা।

সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন জাতিন্দার সিং। এ ব্যাটার যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ওমানের দিকেই ঝুলে ছিল ম্যাচের ভাগ্য।

বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। একই গ্রুপের অপর ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে লড়বে স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ যদি পাপুয়া নিউগিনিকে হারায়, আর স্কটল্যান্ড যদি ওমানকে হারায়, তাহলে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা চলে যাবে সুপার টুয়েলভে। বাংলাদেশ জিতলে, আর ওমান নিজ ম্যাচে জিতে গেলে রানরেটের হিসাব আসবে সামনে।

বিজ্ঞাপন

টস জিতে আগের ব্যাট করতে নেমে ১৫৩ রানের মাঝারি পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ওপেনার নাঈম শেখের ৫০ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে দেড়শর পথ পাড়ি দেয় বাংলাদেশ। বাঁহাতির ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছয়ের মার।

ওমান পেসার বিল্লাল খান ও ফাইয়াজ বাট তিনটি করে উইকেট নেন। দুটি উইকেট নেন কলিমউল্লাহ।

শুরুতে ২০ ওভারে দেড়শ পেরিয়ে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শুরুর বিধ্বস্ত অবস্থা কাটিয়ে নাঈম ও সাকিব আল হাসান দেখান লড়াকু সংগ্রহের আশা। দলীয় শতকের পর তৃতীয় উইকেট জুটিও যখন তিন অঙ্কের পথে, তখন দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় বাংলাদেশ দলের। সরাসরি থ্রোয়ে রান আউ হন সাকিব। বাঁহাতি ব্যাটার ২৯ বলে ৪২ রানে থামেন, মারেন ৬টি বাউন্ডারি।

এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ওমান পেস আক্রমণ সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয় নাঈম ও লিটন দাসকে। ডট বলের বৃত্তে আটকে পড়েন দুই ওপেনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে লিটন (৬) এলবিডব্লিউ হন। ব্যাটিং পজিশনে অদল বদল করে খুব একটা লাভ হয়নি।

তিনে নামা শেখ মেহেদী রানের খাতা খোলার আগেই কট অ্যান্ড বোল্ড হন। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ২৯ রান।

দলীয় ফিফটি পূর্ণ করতে খেলতে হয় ৫০ বল (৮.২ ওভার)। পরের ৫০ অবশ্য আসে মাত্র ২৯ বলে। এসময় নাঈম-সাকিব জুটি খেলেন দুর্দান্ত। ৮০ রানের জুটি থামে সাকিবের রান আউটে।

নুরুল হাসান সোহান পাঁচ ও আফিফ হোসেন নামেন ছয় নম্বরে। তারা কার্যকরী হতে পারেননি মোটেও। দ্রুত তাদের উইকেট পতনের পর স্লগে ব্যাট চালানোর দায়িত্ব কাঁধে পড়ে মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর। আজও হতাশ করেন মুশফিক। ৬ রান করে কাট শটে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষকের হাতে।

ক্রিজে নেমে পরের বলে সাইফউদ্দিন ক্যাচ দেন লংঅফে। পেসার ফাইয়াজ জাগান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। মাহমুদউল্লাহ শেষটা সামলেছেন মোটামুটি। তাতে দেড়শ পাড়ি দেয় বাংলাদেশ। ১০ বলে ১৭ রান করেন অধিনায়ক। ১১ ব্যাটারের মধ্যে কেবল তিনজন পেরিয়েছেন দুই অঙ্ক।

বিজ্ঞাপন