চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জালিয়াতি: উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান কারাগারে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা দাবি করার মামলায় দিনাজপুর সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মো.রবিউল ইসলাম সোহাগকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন আদালত।

দিনাজপুর জেলা সদরের আমলী আদালত-১ এর প্রথম শ্রেণির জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো.ইসমাইল হোসেন আজ বোরবার মো.রবিউল ইসলাম সোহাগকে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দাবি করার দিনাজপুর সদর উপজেলা ভাইস-চেয়াারম্যান মো.রবিউল ইসলাম সোহাগে বিরুদ্ধে গত ৮ অক্টোবর ২০২০ রাতে দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলাটি দায়ের করেন,দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী।

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ফৌজদারি আইনে করা মামলায় রবিউল ইসলাম সোহাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা,মানহানিকর ও প্রতারণামূলক তথ্য প্রচার এবং আওয়ামী লীগের প্রতি জনমনে বিদ্বেষ ও সংগঠনের মধ্যে শক্রতা সৃষ্টি করে অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে জাল প্রেস বিজ্ঞপ্তি তৈরি ও ব্যবহার করে ফেইসবুক ইলেকট্রনিক বিন্যাসে নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক দাবি করা হয়েছে। সর্বোপরি আওয়ামী লীগ, দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মানহানি ও মানসম্মান ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৭ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে ওই ভুয়া ও জাল প্রেস বিজ্ঞপ্তি ব্যবহার করে নিজেকে আওয়ামী লীগ দিনাজপুর জেলা শাখার শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক দাবি করে রবিউল ইসলাম সোহাগ। সে দলের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে সামাজিক-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় এই খবর দেখার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাদী নিশ্চিত হন যে, আসামির দাবিকৃত কথিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষর করেননি। আসামিকে তিনি ওই পদে নিয়োগ বা পদস্থ করেননি।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) মাহবুবুর রহমানকে। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) মাহবুবুর রহমান অভিযোগ গঠনের পর তা আজ রোববার আদালতে পেশ করেন। উচ্চ আদালতে জামিনে থাকা আসামী দিনাজপুর সদর উপজেলা ভাইস-চেয়াারম্যান মো.রবিউল ইসলাম সোহাগে আজ দুপুরে পুরণায় নিন্ম আদালতে জামিনের জন্যে দিনাজপুর জেলা সদরের আমলী আদালত-১ গেলে আদালতের বিচারক প্রথম শ্রেণির জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো.ইসমাইল হোসেন তাকে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন,স্পেশাল পিপি এডলোকেট সামসুর রহমান পারভেজ, সিনিয়র এডভোকেট সাইফুল ইসলাম, এডভোকট শাহাদাত হোসেন এডমিলার ও এডভোকেট সিদ্দিকা মিমি। আসামীর পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মাজহারুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন