চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওই শিশুদের চোখের জল মুছে মুখে হাসি আনবে কে?

বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও যখন সারাদেশে বই উৎসব উদযাপন হয়েছে, তখন সিলেটের একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের অমানবিক একটি খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ‌‘নতুন পোশাক পরে না আসায় বই উৎসবে বছরের প্রথম দিন নতুন বই পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে সিলেটের উমরশাহ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী।’

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মঙ্গলবার দেশের সব স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে যখন তুলে দেওয়া হয় নতুন পাঠ্যপুস্তক, তখন ওই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরেছে।’

সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ আশপাশের বস্তিতে বসবাস করে; যাদের অভিভাবকদের সিংহভাগ দিনমজুর। তাই ওই শিশুদের নতুন পোশাক না থাকাই স্বাভাবিক। আমাদের প্রশ্ন, নতুন পোশাকের সঙ্গে বই পাওয়া না পাওয়ার সম্পর্ক কী?

Advertisement

আমরা মনে করি, এমন আচরণ করে ওই স্কুলের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টরা অমার্জনীয় অন্যায় করেছেন। শিশুদের মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার শিক্ষা দেয়ার বদলে তারা নিজেরাই বর্ণবাদী হয়ে উঠছেন। মানবিক সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে এটা শঙ্কার বিষয়।

আরও অবাক করা বিষয় উঠে এসেছে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা খানমের কথায়। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘নতুন ড্রেস পরে এসে বই নিয়ে যেতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। তাই পুরনো ড্রেস পরে এলে বই দিচ্ছি না।’

তিনি যদিও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র দেখাতে পারেননি, তবুও মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে থাকলে বুঝতে হবে তারাও উল্টোপথে হাঁটছে। এমন নির্দেশনা কেউ দিয়ে থাকলে তাদেরকে এখনই থামানো দরকার বলে আমরা মনে করি। কারণ, এ ধরনের মানসিকতা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়।

ছবি: দৈনিক সমকালের সৌজন্যে