চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঐক্যফ্রন্ট্রের দুই কৌশল, নির্বাচনের মাঠ দখল আর কূটনৈতিক চাপ

নির্বাচনের দিন যতই কাছে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক জোটগুলোর ভোটযুদ্ধের কৌশল। যার একমাত্র লক্ষ্য জয়। রাজনীতির এই খেলায় নতুন নতুন ঘুঁটি সাজিয়ে চলছে দলগুলো। এতে পিছিয়ে নেই অশীতিপর রাজনীতিবিদ ও ঝানু আইনজীবী ড. কামাল হোসেনও।

তারই নেতৃত্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিততে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যাদের অন্যতম দুই কৌশল হচ্ছে; নির্বাচনের মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রভাবশালী কূটনৈতিকদের যোগাযোগ অব্যাহত রেখে আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন ঘোষণার অপেক্ষা। আর নির্বাচনী আসন ভাগাভাগির কাজটিও চলমান। বিএনপির প্রাধান্য এই জোট এখন পুরোদমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে করণীয় ঠিক করছে।

জোটটির বিশ্বাস, শুরুর কয়েক ঘণ্টা সুষ্ঠু ভোট হতে পারলে তাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আর তাই প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় শক্ত কমিটি গঠন করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি আসনের জন্য যৌথভাবে একটি করে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার বিজয়নগর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্য্যালয়ে কেন্দ্রীয় ও মহানগর সমন্বয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐক্যফ্রন্টের ঢাকা মহানগরীর সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। সভায় প্রধান অতিধি ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক সাবেক উপ-মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ্ বুলু।

সেখানে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নিজ নিজ আসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রতিটি আসনের জন্য যৌথভাবে একটি করে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কমিটি নির্বাচনী এলাকায় সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে জানায় ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের আশঙ্কা – আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং সরকারি দলের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং জোরপূর্বক ভোট নিয়ে নেবে। আর তাই নিজেরা সেভাবে প্রস্তুতি নিতে চায়। কেউ জোরপূর্ব ভোট ছিড়ে নেয়ার চেষ্টা করলে কঠিন প্রতিরোধ করার মতো শক্তি সঞ্চয় করছে তারা।

সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ এখন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে সাক্ষাত করছেন। সম্প্রতি গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সাক্ষাত করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক এর সঙ্গে।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউটের (এনডিআই) সাথে বৈঠক করেন কামাল হোসেন।
এ নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বলেছি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট ছাড়াই ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
ড. কামাল বলেন, সব সময় আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন আমরা চেয়েছি। এজন্য আমরা নিউট্রাল সরকার চেয়েছি। আমরা যে সাত দফা দিয়েছি তা নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের জন্য। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দেয়া হলো একটি জাজমেন্ট দিয়ে, এরপর থেকেই সমস্যা শুরু হলো।
‘‘নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরকারের আজ্ঞাবহ থাকার কথা নয় এবং একইসঙ্গে সরকারও নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন না পেছাতে আদেশ দিতে পারেন না। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক মাস নির্বাচন পেছানোর দাবি থাকলেও মাত্র সাত দিন পিছিয়েছে।’’
এখন দেখার অপেক্ষা ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ভোটের খেলায় কোন জোটের কৌশল সফলতা পায়?
Bellow Post-Green View