চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এ বছরের শেষেই ইরাক ছাড়বে মার্কিন সেনাবাহিনী

এ বছরের শেষ নাগাদ যুদ্ধরত মার্কিন সেনাবাহিনী ইরাক ছেড়ে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যদিও এই সময়ের পর ইরাকের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ এবং উপদেশ দেওয়া চালিয়ে যাবে মার্কিন সেনাবাহিনী।

বিবিসির তথ্যমতে, হোয়াইট হাউজে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-খাদিমির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা দিয়েছেন বাইডেন। 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-এর অবশিষ্টাংশ মোকাবিলায় স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা দিতে বর্তমানে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। যুদ্ধরত সেনা তুলে নেওয়া হলেও ইরাকে প্রায় একই সংখ্যক মার্কিন সেনাই থেকে যাবে। তবে যুদ্ধরত সেনা সরিয়ে নেওয়াকে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত বছর ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরান সমর্থিত একটি শিয়া গোষ্ঠীর নেতাকে হত্যার পর থেকে ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। রাজধানী বাগদাদে এক ড্রোন হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। এই ঘটনার পর ইরান সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলো ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের দাবি তোলে।

বিজ্ঞাপন

ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার মাধ্যমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শুরু করা আরেকটি যুদ্ধের অবসান ঘটালেন জো বাইডেন। এই বছর তিনি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউজে আলোচনার সময় বাইডেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমরা এই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলেও আমাদের সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ জবাবে আল খাদিমি বলেন, ‘আজ আমাদের সম্পর্ক যেকোনও সময়ের চেয়ে জোরালো। আমাদের সহযোগিতা অর্থনীতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আরও বহু কিছুতে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকে কোনও যুদ্ধরত বিদেশি সেনার প্রয়োজন নেই।

২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনকে উৎখাত এবং তার ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংসের অজুহাতে ইরাকে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনী।

২০১১ সালে যুদ্ধরত মার্কিন বাহিনী ইরাক ছেড়ে যায়। তবে ইরাক সরকারের অনুরোধে তিন বছর পরে আবারও দেশটিতে প্রবেশ করে তারা। ওই সময়ে দেশটির একটি বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ শুরু করে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। ২০১৭ সালে আইএস-এর পতন ঘটলেও গোষ্ঠীটির অবশিষ্টাংশ নির্মূলে দেশটিতে থেকে যায় মার্কিন বাহিনী।