চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এয়ারপোর্টে নামলেই গ্রেপ্তার হবেন পি কে হালদার

বিদেশ থেকে দেশের এয়ারপোর্টে পা ফেলার সাথে সাথেই পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পুলিশ প্রধান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বহুল আলোচিত পি কে হালদারের বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আইএলএফএসএল এর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এর আগে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয় পি কে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। যার প্রেক্ষাপটে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং তার গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এরই মধ্যে গোপনে দেশ ছাড়েন হালদার। পরবর্তীতে জানান যায় শুধু ইন্টারন্যাশনাল লিজিংই নয়, দেশের আরো কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পি কে হালদারের কারণে দেউলিয়া হতে বসেছে।

বিজ্ঞাপন

এমন বাস্তবতায় নিজেদের টাকা ফেরত পেতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের একাধিক গ্রাহক আদালতের শরণাপন্ন হন। তখন হাইকোর্ট ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেন। তবে আদালতের আদেশে দায়িত্ব নেয়ার কছুদিন পর দায়িত্ব ছাড়েন তিনি।

এরপর হাইকোর্ট সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন। এরপর পি কে হালদারের সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং যোগাযোগ শুরু করে। একপর্যায়ে হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদের কাছে লিখিত আবেদন করে যে, তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে আইএলএফএসএল অর্থ উদ্ধারে সহায়তা করতে চান। পরবর্তীতে আবেদনটি হাইকোর্টে দাখিল করে আইএলএফএসএল।

তবে পি কে হালদার কবে দেশে ফিরবেন তা জানাতে বলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী হাইকোর্টকে জানানো হয় যে, আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে পি কে হালদার ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন। ওইদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

এসব বিষয়ে শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আজ আদেশ দিলেন। এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন ‘কোন আত্মসাতকারীরা টাকা ফেরত দিতে চাইলে সেই সুযোগ যেমন থাকা দরকার, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাও প্রয়োজন।’