চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এসেছে ধরায় ফের মহিয়ান মাস, বিতাড়িতে ধরা থেকে গোনাহের ত্রাস

করোনার ক্রান্তিকালে রহমতের বারিধারা নিয়ে রমজান হাজির। সারা বিশ্ব যে মুহূর্তে লকডাউনে বন্দী জীবন পার করছে, আল্লার রহমতের বিশেষ দ্বার সে মুহূর্তেই উন্মোচিত হলো। ইতোমধ্যেই বইছে রমজানের সুবাতাস। আল্লাহর অবারিত রহমতে ভরে উঠছে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত। করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপান থেকে সুখবর এসেছে ইতোমধ্যে। মনে তাই আশা জাগে, রমজানের মাধ্যমেই হয়ত আল্লাহ তায়ালা এই মহামারিকে দূর করতে চাইছেন!

রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের অসামান্য বৈশিষ্ট্যেঘেরা এ মাস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ উপহার। সহিহ বুখারির ১৮৯৮ নং হাদিস। হাদিসটি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যখন রমজান মাসের প্রথম রাত আগমন করে, তখন শয়তান ও অভিশপ্ত জিনদের শিকলে বন্ধী করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, যার একটিও খোলা থাকে না।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে জান্নাতের দরজাগুলো খোলে দেয়া হয়, যার একটিও বন্ধ থাকে না। এবং একজন আহ্বানকারী এই বলে আহ্বান করতে থাকেন যে, ‘হে সৎকর্মপরায়ণ, এগিয়ে আসো। হে অসৎকর্মপরায়ণ, থেমে যাও।’ আর আল্লাহ তায়ালা রমজানের প্রতিটি রাতে অসংখ্য জাহান্নামীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।”

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দেখা যাচ্ছে, রমজান আমাদের জন্য কেবল সুখবরই আনে না; দুঃসংবাদও দূর করে দেয়। একদিকে যেমন বলা হয়েছে জান্নাতের সুবাসের কথা, তেমনি এসেছে জাহান্নামের আজাব বন্ধের ঘোষণাও। এ-ছাড়াও এক রমজানের আগমনকালে নবীজি সাহাবায়ে কেরামদের ডেকে বললেন, “তোমাদের নিকট সেই মাস উপস্থিত হয়েছে, যাতে এমন একটি রাত আছে; যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হলো, সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। কেবল বঞ্চিত ব্যক্তিরাই তা থেকে বঞ্চিত হয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং:১৬৪৪)। পবিত্র কুরআনেও সেই বাণীর বাস্তবতা ঘোষণা হয়েছে—“লাইলাতুল কাদরি খায়রুম মিন আলফি শাহর” বলে।

বায়হাকির হাদিসে এসেছে, এ মাসের একটি ফরজের সাওয়াব অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমপরিমাণ। আর একটি নফলের সাওয়াব অন্য মাসের একটি ফরজের সমপরিমাণ। সুতরাং, দেখা যাচ্ছে এ মাসের প্রতিটি দিন অত্যন্ত মূল্যবান। হিসাব মতে প্রতিটি সেকেন্ড তথা মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এ মাসে যে যত বেশি আমল করবে সে তত বেশি লাভবান হবে। তার পূণ্যের থলে ততটাই ভারি হবে।

অসংখ্য ফজিলতে পূর্ণ সে মহা-মর্যাদাময় রমজান এসে গেছে। তারাবি অনেকেই পড়ে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। এরপর সাহরি। তারপর সংযমের অনন্য উদাহরণ রোজা। দিনশেষে ইফতার। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন নিয়ামত কিন্তু অন্যান্য উম্মেরা পায়নি। শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত হিসেবে অধিক সৌভাগ্যের অংশীদার হয়েছি আমরা।

আসুন, নিজের পরিশুদ্ধ হই। মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হই৷ তাঁর ইবাদতে একান্তে মনোযোগী হই৷ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থেকেই রমজানের ফজিলত হাসিল করি৷ আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন, আমিন।