চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এসিআই লবণ না থাকলে লবণের বাজার চড়ে যাবে: সৈয়দ আলমগীর

সৈয়দ আলমগীর গেলো ১৯ বছর ধরে এসিআই লিমিটেডের সঙ্গে রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করার পর একটি বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মে ও বেকার লিমিটেডে তার কর্মজীবন শুরু করেন। যা বর্তমানে সানফি এভেন্টিস নামে পরিচিত।

এসিআই এ যোগ দেয়ার আগে তিনি ছয় বছর যমুনা গ্রুপে গ্রুপ মার্কেটিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন। তিনি বিভিন্ন কৌশলগত বিপণন কার্যক্রমে সফল অনেক ব্যান্ড তৈরি করেছেন। ১০০% হালাল সাবান এর উপর তার কাজ অনেক প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব মার্কেটিংয়ের গুরু ডেভিট ফিলিপ কটলারের বইয়ে তার এই হালাল সাবান কনসেপ্ট গৃহীত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসা ও বিপণন কর্মে তিনি একজন সফল সৈয়দ আলমগীর ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের নতুন ভোগ্যপণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। ‘পিওর’ ব্র্যান্ডের পণ্য সমূহ যেমন এসিআই পিওর লবণ, চাল, গম ও আটা ময়দা ইত্যাদি। এসিআই অ্যারোসল ও মশার কোয়েল’কে বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে উন্নয়ন করেছেন তিনি। তার সাম্প্রতিক উদ্যোগ ‘স্টাইলাস’ ব্রান্ডের মোবাইল ফোন ও ‘স্পার্কল’ ব্রান্ডের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে।

বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন এসিআই এর এই মিশন অর্জনের লক্ষ্যে আলমগীর তার কার্যক্রমকে পরিচালনা করছেন। তার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প বাণিজ্যে নতুনমাত্রা যুক্ত করতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান অনস্বীকার্য। এই বছর তিনি চ্যানেল আই ব্র্যান্ড ফোরাম এর মার্কেটিং সুপারস্টার অ্যাওয়ার্ড এ ভূষিত হয়েছেন।

সম্প্রতি এসিআই লবণের বাজারজাতকরণের উপরে স্থগিতাদেশ এবং তা প্রত্যাহার করে নেওয়া প্রসঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকার দেন সৈয়দ আলমগীর।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ৫২ টি নিম্নমানের পণ্য বাতিল করা হয়েছে তার মধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠানের পণ্যও আছে, কেন?
সৈয়দ আলমগীর: আসলে বাতিল করা হয়নি-এটি স্থগিত করা হয়েছিল। তারা ৫২টি পণ্যের ভেতরে বিভিন্ন সমস্যা পেয়েছে। আমি অন্যেরটা না, আমারটাই বলি। আমার এসিআই সল্টের ভেতরে তারা বলেছে পিএইচ ভ্যালুটা একটু বেশি পাওয়া গেছে। তারা চট্টগ্রামের যে কোনো জায়গা থেকে একটি প্যাক নিয়ে চেক করেছে। যা তারা সবসময়ই করে থাকে। বিএসটিআই অনেক সময়ই এটি করে থাকে শুধু রমজানের সময়েই না।

প্রশ্ন: রমজানের সময়ে এই কাজ জোরালো হয়?
সৈয়দ আলমগীর: হ্যাঁ। এই সময়ে আওয়াজ বেশি শোনা যায়। কারণ তখন তেল দেখতে পারেন, জিলাপিতে ধরা দেখেন এবং বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যে ধরা দেখেন ইত্যাদি ইত্যাদি। বিএসটিআই সকল পণ্যের জন্য রেসপন্সিবল না। সরকার থেকে তাদেরকে পণ্যের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে যে, তারা এই সব পণ্যের মান দেখতে পারবেন।

আমাদের লবণ ২০০৫ সাল থেকে অর্থাৎ প্রায় ১৪ বছর এই লবণ বাজারে আছে এবং এই লবণ মার্কেট লিডার এখন। লাখ লাখ প্যাকেট বাজারে এই লবণ আছে। কাজেই একটা লবণের প্যাকেট সেখান থেকে নিয়ে রেজাল্ট পেয়েছেন যে, তাতে পিএইচ ভ্যালু বেশি পাওয়া গেছে। তার জন্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা উত্তর দিয়েছি- আপনারা আরও বৃহত্তর স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করেন। কারণ ওই ব্যাচের অন্যসব প্যাকেট আমাদের কাছে আছে তাতে সব ঠিকই আছে। তাই সাথে সাথে তারা আরও বৃহত্তর স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভাল পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যেই হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: আস্থার জায়গা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে তার কী হবে?
সৈয়দ আলমগীর: কোনো সমস্যা হয়নি তো। এই ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং স্থগিতাদেশ আসতেই পারে কিন্তু তা তো টেকেনি। আবার প্রমাণিত হয়েছে আমাদের লবণে কোন সমস্যা নেই।

প্রশ্ন: বিএসটিআই আপনাদের লবণের অনুমোদন দিলো আবার তারাই নিম্নমানের কারণে স্থগিত করে দিলো?
সৈয়দ আলমগীর: আপনি পয়েন্টটা বোঝেননি। লবণটা এই রকম না। লবণ তো কন্টিনিউয়াস প্রসেস। একটা লবণ নিয়ে তিনি ২০০৫ এ অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন আর যে চেক করবেন না, তা না। তারা কন্টিনিউয়াস চেক করছেন এবং সবই ঠিক পাচ্ছেন। ২০১৪ সালে কোন এক জায়গায় গিয়ে দেখেছেন যে, একটি প্যাকের ভেতরে পিএস ভ্যালু একটু বেশি আছে। তার জন্যে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতেই পারেন। আমরাও উত্তর দিয়েছি। আপনি একটা প্যাকেট নিয়েছেন কিন্তু বাজারে লাখো প্যাক আছে। আপনারা বৃহত্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। কেউ লবণ মাটিতে রাখতে পারে সেখান থেকে ময়েশ্চার গেইন হতে পারে ।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: আপনাদের কি সুপার ভিশনে কোন সমস্যা আছে?
সৈয়দ আলমগীর: আমাদের সুপার ভিশনে কোনো সমস্যা নেই। আমাদের সব গ্রামে গঞ্জে লোক আছে।বৃহত্তর পরীক্ষার জন্যে আমরা বলি। বৃহত্তর দেখেছে চট্টগ্রামেই। এই চট্টগ্রামের ঘটেছিল ঘটনাটা। তারা রেজাল্টটা পাবলিশ করার আগেই এটাতে একজন সু করে দিয়েছেন যে, এইগুলো যদি মানহীন হয় তাহলে এগুলো বন্ধ করা হবে না কেন? করতেই পারে? তাই মহামান্য আদালত বলেছে যে, হ্যাঁ- এটি আপাতত বন্ধ থাকবে এবং এইগুলোকে চেক করে আবার দেখো। আদালতের নির্দেশে আবার চেক করে সঠিক পেয়েছেন এবং আমাদের উৎপাদনের উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন।

প্রশ্ন: ভেজাল বিরোধী অভিযান রমজানে বেশি হয় কেন? যারা এই অভিযান করেন তাদের কি চোখ খুলে যায় এই সময়ে? নাকি মানুষের পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় তাই অভিযান চালানো হয়?
সৈয়দ আলমগীর: রোজার সময়ে গ্রেটার আসপেক্টে ফুড বিজনেস হয়। আমরা রোজার সময়ে যে সব খাবার খাই এই সব খাবার নরমাল সময়ে খাই না।

প্রশ্ন: লবণ তো সব সময়ই লাগে?
সৈয়দ আলমগীর: আমি আবার বলছি। এটি রোজার কারণে হয়নি। এটি রুটিন ওয়ার্ক। অন্যান্য যেসব প্রডাক্টের নাম এসেছে সেগুলোও রুটিন। এখানে কিন্তু জিলাপীর কথা বলা হচ্ছে না। এখানে ছোলার কথা বলা হচ্ছে না। পেঁয়াজুর কথাও বলা হচ্ছে না। অ্যাজ এ রুটিন। এইগুলো করে থাকে এবং যখনই সমস্যা হয় তখনই তাকে নোটিশ করা হয়। রোজার সাথে এর কোন সংযোগ নাই।

আপনি জানেন, পিএস ভ্যালু হলো এসিটিক কতোটুকু আছে তা নির্ধারণ। সি ওয়াটারে পিএইচ ভ্যালু আট। আমাদের লবণে ৭ পয়েন্ট ৪ করা হয়েছে কিন্তু তার চেয়ে একটু বেশি পাওয়া গিয়েছিল ওই প্যাকটাতে। কিন্তু তারপরের প্যাকগুলোতে ভাল পাওয়া গিয়েছে তাই পরে বিএসটিআই আবার বাজারজাত করার অনুমতিপত্র দিয়েছে।

প্রশ্ন: ব্র্যান্ডিংয়ে আপনার শীর্ষে কিন্তু কোয়ালিটিতে কি নজরদারি নেই?
সৈয়দ আলমগীর: কোয়ালিটি ইজ ফাইন। দে ফাউন্ড ইট কোয়াইট ওকে। এসিআই যেসব পণ্য উৎপাদন করে তার গুণগত মান বিশ্বমানের। যেসব পণ্যের কারণে বাংলাদেশ গৌরববোধ করতে পারে তার মধ্যে এসিআই সল্ট একটা। এই এসিআই সল্ট সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সময় পরীক্ষিত হয়ে যায়। মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। এসিআই সল্ট ইজ অ্যাভেলঅ্যাবল ইন ম্যানি কান্ট্রিস। নট ওনলি ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্যাট পাসেস অল দ্যা প্যারামিটারস অব দোজ কান্ট্রিস। কাজেই এটি গৌরববোধ করার মত প্রডাক্ট। এটি বাদ দিলেও এসিআই এর যে কোন সামগ্রী আপনি দেখবেন এটি বিশ্বমানের। এসিআই অ্যারোসল মার্কেট শেয়ার ৯৭ শতাংশ। বিশ্বের অনেক নামী কোম্পানি যেমন, মরটিন, বেগোন তার কাছে টিকতে পারেনি। কেন টিকতে পারেনি? তার কারণ এর কোয়ালিটি প্যারামিটার ইজ সো নাইস। এসিআই স্যাভলন মোর দ্যান ৮০ পারসেন্ট মার্কেট শেয়ার আছে। আমাদের আটা ময়দা সুজির শেয়ার লার্জ। চিলিজ এন্ড অল দিস থিংকস লার্জ শেয়ার।

প্রশ্ন: এই যে আপনাদের লবণের ব্যাপারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলো। এতে আপনাদের সুনামের উপরে প্রভাব ফেলেনি?
সৈয়দ আলমগীর: এই যে আপনার সাথে এখন কথা বলছি এর মাধ্যমে মানুষ কিন্তু বুঝছে যে, কিভাবে ঘটনাটা হয়েছিল।

প্রশ্ন: আমরা আপনাকে ডেকে কথা বলছি। আপনাদেরও তো দায়িত্ব আছে সকলকে জানানোর।
সৈয়দ আলমগীর: একদিনে ১৯ টি চ্যানেলে জরুরি বিশেষ ঘোষণা হিসেবে গিয়েছে যে, এসিআই লবণের বাজারজাতকরণের উপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটা মানুষের অধিকার আছে সমালোচনা করার। এটিকে আমি সম্মান করি। আর আমারও একে ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে। কাজেই আমরা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছি। যারা দেখেছিলেন এবং মনে করেছিলেন সমস্যা কিন্তু তারা আবার যখন দেখছেন আমাদের লবণ মান সম্পন্ন বলে আবার ছাড়া পেয়েছে। তখন আবার সবার আস্থা ফিরে এসেছে।

প্রশ্ন: পি এইচ ভ্যালু হাই হলো কেন?
সৈয়দ আলমগীর: এটি হাই হতে পারে অনেক কারণে। হাই মানে ওই প্যারামিটার থেকে একটু হাই আছে। আমি বলি- সি ওয়াটারের পি এইচ ভ্যালু আছে আট। মানুষের জিহ্বার নীচের স্যালাইন তার পি এইচ ভ্যালু আট। রক্তের পি এইচ ভ্যালু ৭। পাওয়া গেছে ৯। এখানে থাকা দরকার ছিল সেভেন পয়েন্ট সামথিং। ওই প্রডাক্টটি ছিল দুই মাস আগের একটা প্রডাকশন প্রডাক্ট। কী কারণে হয়েছে? টেষ্টিংয়ের সময় কোন সমস্যা হয়েছে কিনা- তা আমি জানি না। আমি এটি জানি আমার কাছে যে লবণ উৎপাদিত আছে তার মান ঠিক আছে। রেগুলার ২/৩ টা ব্যাচে তৈরি এবং তা বুয়েটে, বিএসটিআই এ এবং স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার জায়গায় আমরা পরীক্ষা করাই। সব জায়গায় পরীক্ষায় আমাদের পণ্য ঠিক আছে।

প্রশ্ন: বড় বড় ল’ইয়ার ধরে আপনারা সবকিছু আবার আপনাদের পক্ষে নিয়ে আসলেন?
সৈয়দ আলমগীর: কোন ক্লেম হলে ল’ইয়ারের কাছে যাব না? তাহলে আদালত আমার কথা তো শুনবে না। আমরা নিয়ম মত আদালতের মাধ্যমই সব সমস্যার সমাধান করেছি। এসিআই লবণ বাজারে না থাকলে লবণের বাজার অনেক চড়ে যাবে।

প্রশ্ন: এসিআই লবণ বাজারে না থাকলে ভোক্তারা লবণ পাবে না। লবণের জন্যে হাহাকার তৈরি হবে? একচেটিয়া বাজার আপনাদের?
সৈয়দ আলমগীর: অবশ্যই এসিআই না থাকলে বাজারে ইমপ্যাক্ট হবে। আপনি বলেন- বাজারে লাক্স সাবান না থাকলে তার প্রভাব পড়বে না? অবশ্যই পড়বে। এসিআই অ্যারোসল মার্কেটে না থাকলে তার ইম্প্যাক্টও পড়বে বাজারে। এসিআই একটি মূল্যবোধ সম্পন্ন কোম্পানি। চারটা জিনিসের উপরে আমাদের লক্ষ্য থাকে। কোয়ালিটি আমাদের প্রধান ভ্যালু। এর পরে আছে ট্রান্সপারেন্সি। এরপরে আমাদের ফেয়ারনেস এবং কাস্টমর ফোকাস। এছাড়া কন্টিনিউয়াস ইমপ্রুভমেন্ট ও ইনোভেশন- এই ৬টি ভ্যালু আমরা সব সময়ই মনে রাখি। এসিআই একটি পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি। এটি একটি ব্যক্তি মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। হাজার হাজার মানুষের শেয়ার আছে এই কোম্পানিতে।

প্রশ্ন: ভাল পণ্য বাজারে দিতে অসুবিধা কোথায়?
সৈয়দ আলমগীর: যারা খারাপ পণ্য দিয়ে বাজারে থাকে তারা বেশিদিন টিকে না। তাদের মার্কেট শেয়ার ৮০ শতাংশের উপরে থাকে না। মানুষ এতো বোকা না যে, ১০০টার মধ্যে ৯৭ টা কিনবে, যদি সেই প্রডাক্টের কোয়ালিটি না থাকে।

Bellow Post-Green View