চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এসব কিছুই আমার ভাইকে ফিরিয়ে দেবে না: টেরেন্স ফ্লয়েড

যখন টেরেন্স ফ্লয়েড যুক্তরাষ্ট্রের মিনেয়াপোলিসে তার ভাই জর্জ ফ্লয়েডের স্মৃতিসৌধে পৌঁছান, তখন তিনি এতটাই আবেগাক্রান্ত ছিলেন যে তার দুপাশে দু’জন ছিলো। এক পর্যায়ে তারা তাকে মাটিতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন। টেরেন্স বলেন, এসব কোনো কিছুই তার ভাইকে ফিরিয়ে দেবে না। তাই সহিংসতা না করারও আহ্বান জানান তিনি।

জর্জ ফ্লয়েড টেক্সাসের এক ধর্মীয় পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাই টেরেন্স ফ্লয়েড ফুল, বিক্ষোভ চিহ্ন, মোমবাতি ও বেলুনের মধ্যেই নতজানু হয়ে বসে পড়েন, কাঁদেন এবং ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করেন। কিছু দূরেই সাদাকালো প্ল্যাকার্ডে একজন জর্জ ফ্লয়েডের শেষ বাক্য, ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ লিখে উঁচিয়ে ছিলো। এমনকি টেরেন্সের মাস্কেও জর্জ ফ্লয়েডের ছবি আর এই শেষ বাক্যটা লেখা ছিলো।

হঠাৎ ভীড়ের মধ্যে থেকে শব্দ আসে হাটু গেঁড়ে বসুন। অন্তত ৫০ জন সেভাবে বসেও। পরে টেরেন্স বলেন, প্রথমত আমি এখানে কোনো কিছু উড়িয়ে দিতে আসিনি, আমার সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে আসিনি। তাহলে আপনারা সবাই কী করছেন? কেননা কোনোকিছুই আমার ভাইকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই চলুন অন্য কোনো পথ বেছে নিই। আমাদের কণ্ঠ কাজ করবে না, এমন ভাবা বন্ধ করি এবং ভোট দিই। আমরা অনেকে একসাথে আছি আর এটা আমরা একসাথেই শান্তিপূর্ণভাবে করবো। এরপরে টেরেন্স ফ্লয়েড একটি গান করেন, ‘বাম দিকে শান্তি আর ডান দিকে ন্যায়বিচার।’

ফ্লয়েড সবাইকে সমর্থন দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার ভাইয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য চাপ দিতে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, তার ভাইয়ের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চার অফিসারের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ মে মিনেয়াপোলিসে পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় মারা যান ৪৬ বছর বয়সী আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড।

৪৪ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে তার মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যে, বেশ কয়েক মিনিট ধরে ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে থাকেন চাওভিন। ফ্লয়েড বারবারই বলছিলেন, তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না।

এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো শহরে এই ঘটনায় শুরু হয় বিক্ষোভ। অন্তত ৩০ শহরে বিক্ষোভ করে বিক্ষোভকারীরা। ফলে কারফিউ জারি করা হয় বেশ কিছু শহরে।

শেয়ার করুন: