চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এমন সাহস হয় কীভাবে?

একজন পল্লী চিকিৎসক সাধারণ মানুষের বিপদে ভরসাস্থল হলেও এর বিপরীত কাণ্ড ঘটেছে নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নে। সেখানকার বুদ্দিনগর এলাকায় দু’জন নারী-পুরুষকে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করেছেন জাফর নামে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক।

তাও আবার অর্ধশত মানুষের সামনে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়: অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ এনে জাফর নামের এই পল্লী চিকিৎসক অর্ধশত মানুষের সামনে তাদের মারধর করেন। এমনকি এসময় অভিযুক্ত পুরুষ শ্রমিকের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়।

দুই খণ্ডে মোবাইলে ধারণকৃত ৫ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়: মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সাথে বেঁধে পুরুষটিকে নির্যাতন করা হচ্ছে। নারী শ্রমিককে ওই গ্রাম্য ডাক্তার জাফর একটি লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করছে। এভাবে দফায় দফায় অভিযুক্ত নারী ও পুরুষকে মারধর করা হয়। পল্লী চিকিৎসক জাফরের সঙ্গে থাকা জাহাঙ্গীর, ইয়ার আহাম্মদ, সেলিম, গিয়াস উদ্দিনসহ আরো কয়েকজনও তাদের মারধর করে।

বিজ্ঞাপন

গ্রাম্য ডাক্তার জাফরসহ তার সহযোগীরা ওই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ আনলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন। নির্যাতনের শিকার পুরুষ শ্রমিক বলেছেন: তিনি নারী শ্রমিকের কাছে দুই হাজার টাকা পাবেন। টাকার জন্য নারী শ্রমিকের বাসায় গেলে গেলে স্থানীয় কিছু লোকজন তাকে এবং ঐ নারীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ওই নারী ও তার মা অনুরোধ করলেও তারা তাদেরকে ছেড়ে দেয়নি। একই সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে গিয়ে মারধর করে।

আমরা সুস্পষ্টভাবে মধ্যযুগীয় এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ওই শ্রমিকদের এভাবে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই। তারা যদি কোনো অন্যায় করেও থাকেন, তাহলে সেজন্য দেশে আইন এবং বিচারব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কথিত অপরাধের অপবাদ দিয়ে অন্য কেউ তাদের উপর এভাবে বর্বরতা চালাতে পারে না।

তবে এ বিষয়ে আশার খবর জানিয়েছেন সুধারাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা আনোয়ার হোসেন। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেছেন: পল্লী চিকিৎসক জাফরসহ ৪ জনকে আসামি করে নির্যাতিত নারী থানায় মামলা করেছেন। নির্যাতনকারী জাফরকে ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

পুলিশের এই ভূমিকা প্রশংসনীয়। নির্যাতনকারী জাফরের অন্য সহযোগীদেরও শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে বলে আমাদের আশাবাদ। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এমন মধ্যযুগীয় নির্যাতন আরও ছড়িয়ে পড়বে, যা কখনোই কাম্য নয়।

এই অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার শ্রমিকদের সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Bellow Post-Green View