চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এমন বিষাদময় পরিস্থিতি যেন আর দেখতে না হয়

করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এখন মানুষের ভরসাস্থল হাসপাতাল। এখনো যদিও কোভিড-১৯ এর কোনো ভ্যাক্সিন বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি, তবুও হাসপাতালে প্রচলিত চিকিৎসা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বহু মানুষ সুস্থ হচ্ছেন। ডাক্তাররা নিজেদের ঝুঁকি সত্ত্বেও করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে এর মধ্যেই বুধবার রাতে এক বিষাদের খবর এলো। রাজধানীর ইউনাইেটড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো তাবুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন ৫ জন রোগী মারা যান। মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও একজন নারী। চিকিৎসকরা জানান, মারা যাওয়া ৫ জন রোগীর মধ্যে ৩ জনের করোনা পজিটিভ ছিল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিজ্ঞাপন

ফায়ার সার্ভিস এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানাতে পারেনি। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিস এবং ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়সারা পরিস্থিতির দায়ী করলেও ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের পূর্ণ সহায়তার কথা। করোনাভাইরাসের জরুরি পরিস্থিতিতে অনেক কিছু দ্রুততার সাথে করতে হয়েছে তাও ঠিক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এছাড়া আগুন যখন লেগেছে তাৎক্ষণিকভাবে একসঙ্গে পুরোটায় লেগে গেছে। এ কারণে একজন রোগীও বের হতে পারেনি। তাছাড়া, করোনা রোগীর আশপাশে সাধারণত কেউ থাকেন না। ওখানে ওই ৫ জন রোগীই চিকিৎসাধীন ছিলেন। যখনই আগুন লেগছে তখন তারা আর বের হতে পারেনি। এর ফলে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশ।

আমরা জানি, মানুষ হাসপাতালে আসে অসুস্থতা নিয়ে সুস্থ হওয়ার জন্য কিন্তু এখানে যেভাবে আগুন লেগে ৫ জন রোগীর মৃত্যু হল তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনা থেকে দেশের অন্যান্য হাসপাতাল সমূহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে আমরা আশা করি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রোগীদের নিয়ে আর কোথাও যেন দায়সারা ভাব দেখা না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে।

এমন বিষাদময় পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের যেন আর হতে না হয়, তা নিশ্চিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দায়িত্বশীলদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।