চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এভাবেই মিলিয়ে যাক করোনা

দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে। দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ৫৭১তম দিনে ১৭ জনের মৃত্যুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৮৭ জন। গতকাল মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩১। আর নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৮ জন, পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার চার দশমিক ১২ শতাংশ। গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন।

বিশ্বজুড়ে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রায় দুই বছর হতে চলেছে। ডিসেম্বরে পূর্ণ হবে দুই বছর। এই ভাইরাস বিশ্বে প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমিয়ে দিয়েছে এক থেকে দুই বছর। এক্ষেত্রে বেশি ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির পুরুষের গড় আয়ু কমে গেছে দুই বছর। আর দেখতে দেখতে বিশ্বের ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার মানুষকে কাবু করেছে করোনাভাইরাস। আর এর মধ্যে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ (৪৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯৪) জনের।

বিজ্ঞাপন

সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগস্ট মাসের প্রথমদিক থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের পথে দেশ। এবার মৃত্যু ও শনাক্ত কমে আসার মাধ্যমে সবকিছু মিলিয়ে করোনা পরিস্থিতি একটি ইতিবাচক উন্নতির দিকে যাচ্ছে। এই কঠিন করোনাকালে দ্রুত ভ্যাকসিনেসন করোনাকে অনেকখানি ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত মৃত্যুর মিছিল দেখা যায়নি এখানে।

ভ্যাকসিন কর্মসূচি এগিয়ে চলেছে জোরেশোরে। দেশে এ পর্যন্ত (২৮ সেপ্টেম্বর) ৪ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫২ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬ হাজার ১৭ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৫ জন। ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল পর্যন্ত ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন করোনা টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। দেশের জনগণ ভ্যাকসিনের প্রতি বিশ্বাস ও আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন, যা খুবই ইতিবাচক।

করোনা ঠেকাতে সচেতনতার পাশাপাশি ভ্যাকসিন নেওয়া নিশ্চিত করার বিকল্প নেই, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানাও খুব জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে করোনা হঠাৎ আবারও ফিরে এসেছে নতুন শক্তি নিয়ে। এরকম পরিস্থিতি যেনো বাংলাদেশে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যথাযথ নিয়ম মেনে চলা এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলতে থাকলে ধীরে ধীরে করোনাভাইরাসের মিলিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বিজ্ঞাপন