চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এবার মাইক পেন্সের সহকারী কোভিড আক্রান্ত

মাস্ক না পরেই সম্প্রতি একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের একজন সহকারী করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবার মাইক পেন্সের প্রেস সেক্রেটারি কেটি মিলারের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে।

বিজ্ঞাপন

একদিন আগে হোয়াইট হাউজের আরেক কর্মীও করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে হোয়াইট হাউজে প্রতিদিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক পেন্সসহ অন্যদের  করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজ বলছে, করোনাভাইরাস থেকে প্রেসিডেন্টকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দেশটিতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়েছে। তারপরও এরই মধ্যেই কিছু কিছু রাজ্যে লকডাউন তুলে নেয়া হচ্ছে।

গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে একঘণ্টা বসে থাকার পর মাইক পেন্সের টিমের ৬ জনকে হঠাৎ করে প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে মিডিয়া পুলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ছয় কর্মী সম্প্রতি কেটির সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তাদের সংস্পর্শে আসেনি।

কেটি মিলার ট্রাম্পের আরেক সহকারী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী। হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকানদের সঙ্গে এক মিটিংয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শুধু পূর্বসতর্কতা নিতে পারি। আর নিজের জন্য সবচেয়ে ভালো যা, তা করতে পারি।’

যদিও করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য মাস্ক পরতে মোটেও পছন্দ না ট্রাম্পের। বিশ্বের অন্য সব রাষ্ট্রনেতারা মাস্ক পরলেও, তাতে প্রভাব নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনের সময়েও তিনি মাস্ক পরেননি বলেও জানান ট্রাম্প। কারণ তার সঙ্গে থাকা অন্যরা তখন অনেক দূরে অবস্থান করেছিল।

‘‘আর বাতাস এত জোরে আর এমন দিকে বইছিল যে, তারপরও যদি তারা আক্রান্ত হলে আমি খুবই হতবাক হবো’’। বলেন তিনি।

তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্পের মাস্ক না পরাটা শুধু স্টাইলের প্রশ্ন নয়- এটি রাজনৈতিক বার্তাও। কেননা এর মাধ্যমে হোয়াইট হাউজ দেখাতে চায়, দেশের করোনা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে। শিগগিরই অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরবে।

যদিও এমন সব সমালোচনার মধ্যে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তার সাথে থাকা কর্মীরা মাস্ক পরতে শুরু করেছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পরে করোনাভাইরাস। পরে বিশ্বব্যাপী তা মহামারী রূপ ধারণ করে। বর্তমানে সারাবিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে আর প্রাণ হারিয়েছে পৌনে তিন লাখেরও বেশি মানুষ।