চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি, মুখ খুললেন স্ত্রী

জুলাই মাসের ৬ তারিখ মারা গেছেন কিংবদন্তী শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। মৃত্যুর দেড় মাস গত হতে না হতেই তাকে নিয়ে মিথ্যে খবরের ছড়াছড়ি। এমন অভিযোগ এনেই মুখ খুললেন তার স্ত্রী লিপিকা।

রবিবার রাতে এন্ড্রু কিশোরের অফিশিয়াল ফেসবুক থেকে লিপিকা জানান, ভেবেছিলাম আর কিছু লিখবো না। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন খবর দেখে না লিখে থাকতে পারলাম না। কিশোর বেঁচে থাকতে যারা কিছু বলার সাহস পায়নি আজ তারা অবলীলায় যা ইচ্ছা তাই বলছে। যাদেরকে কিশোর স্নেহ করত বা শ্রদ্ধা করত, তারা কি সুন্দর বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলেছে বা লিখেছে। যেমন ১. আগের দিন কফিন বানাতে বললো ২. মায়ের পাশে সমাধি হতে চাই ৩. বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল ৪. মুক্তিযোদ্ধাদের গান শোনাত ইত্যাদি ইত্যাদি।

বিজ্ঞাপন

বিরক্তি প্রকাশ করে কিংবদন্তী শিল্পীর এই স্ত্রী আরো বলেন, ইউটিউবে তো ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি। বিয়ে, ছেলে, মেয়ে, বাড়ি, গাড়ি, টাকা, সম্পত্তি নিয়ে মনগড়া গল্পের খবর আর ভিডিওর প্রতিযোগিতা চলছে যেন। খুব অবাক হয়েছি। মিথ্যা খবর বানিয়ে কার কী লাভ হচ্ছে ঠিক বুঝতে পারছি না। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান নাকি সামাজিকভাবে লাভবান- ঠিক জানি না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কিশোরের কোন ছাত্র বা শিষ্য ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে একজন নিজেকে শিষ্য বলে প্রচার করতে লাগলো। কিশোর ফোন করে তাকে বকা দিয়েছিল এবং বলেছিল কথাটা না লিখতে, কিন্তু সে সেটা শোনেনি। কিশোর খুবই কষ্ট পেয়েছিল এবং অসন্তষ্ট ছিল। সে নিজেকে শিষ্য পরিচয় দিয়ে প্রতিনিয়ত ইউটিউবে ভুয়া ভিডিও ক্লিপ আর খবর দিয়ে চলেছে।

লিপিকা কথা বলেন এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার খরচ নিয়েও। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে কিশোরের চিকিৎসা খরচ হয়েছিল প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা। যার ২৪ ভাগ দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার, ৩২ ভাগ আমাদের পরিবারবর্গ ও আত্মীয়স্বজন, আর সবচেয়ে বেশি ৪৪ ভাগ দিয়েছিল দেশে ও বিদেশের অগনিত শিল্পী, ভক্ত, অনুরাগী! যারা অন্তর থেকে চেয়েছিল কিশোর সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসুক।

মানুষের এমন ভালোবাসায় এন্ড্রু কিশোর উচ্ছ্বসিত ছিলো বলেও জানান লিপিকা। তিনি বলেন, কিশোরের একটা বড় আত্মতৃপ্তি ছিল, সে আমাকে বলেছিল, আমি এত অসুস্থ না হলে কোনদিন বুঝতেই পারতাম না যে, মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে। আমার জন্য এভাবে দুইহাত বাড়িয়ে দিবে এবং সে দেশে ফিরে সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাবে বলে অনেক কিছু ভেবে রেখেছিল। ভাবনা গুলো ভাবনাই থেকে গেল।

শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে এন্ড্রু কিশোর অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়। কয়েক মাস ধরে সেখানে তার চিকিৎসা চলে। সেখানে চিকিৎসা শুরুর কয়েক মাস তার অবস্থা কিছু ভালো হলেও শেষ দিকে এসে আবার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে করোনার এই সংকট সময়ের মধ্যেই গেল জুন মাসের ১১ তারিখ ঢাকায় ফেরেন তিনি। এরপর ২০ জুন থেকে বোন শিখা বিশ্বাসের সঙ্গে জন্মস্থান রাজশাহীতে থাকতে শুরু করেন এন্ড্রু কিশোর। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।