চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এতোটা গ্রহণ, এতো প্রশংসা কখনোই পাননি রাশেদ অপু

জানোয়ার নিয়ে হইচই:

জানোয়ার মুক্তির পর লোকজন ফোন করে আমাকে গালি দিচ্ছে: রাশেদ অপু

গেল এপ্রিলে গাজীপুরের শ্রীপুরে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি ও ধর্ষণের পর চারজনকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে ক’জন নরপশু। সেই ঘটনাকে ওয়েব ফিল্ম আকারে পর্দায় তুলে এনেছেন তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফী। যার নাম দিয়েছেন ‘জানোয়ার’।

দিন কয়েক আগে সিনেম্যাটিক অ্যাপে মুক্তি পাওয়া ১১৭ মিনিটের এ ওয়েব ফিল্মটি মুক্তির পর থেকে অনলাইনে শুরু হয় প্রশংসার জোয়ার! এটি নিয়ে যেসব সমালোচনা চোখে পড়েছে, তার সবটুকুই ছিল ইতিবাচক আলোচনা!

বিজ্ঞাপন

‘জানোয়ার’ নিয়ে শত শত রিভিউ, হাজারও গঠনমূলক মন্তব্যে ভরা চলচ্চিত্র, নাটক বান্ধব বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ। বাস্তব ঘটনা নিয়ে টার্ন কমিউনিকেশনের উদ্যোগে রায়হান রাফীর সাহসী নির্মাণকে দর্শক একদিকে যেমন প্রশংসা করছেন, তেমনি বাস্তবের মানুষরূপী ‘জানোয়ার’দের কর্মকাণ্ডে তীব্র ঘৃণা জানাচ্ছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে পর্দায় ‘জানোয়ার’-এ শিল্পীরা যে অভিনয় নৈপুণ্যতা দিয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যেখানে অভিনয় করেছেন তাসকিন রহমান, রাশেদ অপু, এলিনা শাম্মী, জামশেদ শামীম, ফারহাদ লিমন, মুনমুন আহমেদ, আরিয়া আরিত্রা, জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

বিশেষ করে ‘জানোয়ার’ ওয়েব ফিল্মে ‘ট্রাম কার্ড’ হিসেবে দেখা গেছে রাশেদ অপুকে, যিনি এমন বর্বর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। সবকিছু উতরে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় দিয়ে রাশেদ অপু বাজীমাৎ করেছেন। মুক্তির পর থেকে তিনি নিজেও এটা অনুভব করছেন যে, অভিনয় দিয়ে দর্শকদের কাছাকাছি পৌঁছুতে সক্ষম হয়েছেন। বললেন, আমি গত কয়েক দিনে কমপক্ষে একহাজার রিভিউ পেয়েছি। সবখানেই মানুষ অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। নেচিবাচক মন্তব্য খুঁজে পাইনি।

‘জানোয়ার’ প্রসঙ্গে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে রাশেদ অপু বলেন, ভয়াবহ রেসপন্স পাচ্ছি। চরিত্রটি এতোটা হিংস্র ছিল যে আমার কাছে মানুষজন ফোন করে প্রথমে গালি দিচ্ছে; বলছে, আপনি এতো খারাপ! কীভাবে এমন কাজ করতে পারলেন? আমার বউ ‘জানায়োর’ এর ট্রেলার দেখার পর গল্প শুনে ভয়ে আর দেখতে চায়নি। তারা আসলে গল্প ও আমার চরিত্রটায় ঢুকে যাওয়ার ফলেই বলেছে। শেষে ধাতস্ত হয়ে আমার অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলছে, অসাধারণ অসাধারণ অসাধারণ! একটাবারের জন্য আমার চরিত্র ভুলতে পারেননি। মনে হচ্ছে পরিশ্রম স্বার্থক।

থিয়েটার কর্মী রাশেদ অপু নাটকে যুক্ত বেশ কয়েক বছর ধরেই। সেখান থেকে এসেছেন সিনেমায়। নায়ক নয়, তিনি নেচিবাচক চরিত্রে হাজির হচ্ছেন আসন্ন এক ডজন সিনেমায়। গেল মাসে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব এলএল.বি’ সিনেমাতেও নেচিবাচক চরিত্রে ভর করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন রাশেদ অপু। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ‘জানোয়ার’-এ নেতিবাচক চরিত্র দিয়ে ফের অভিনয় ক্যারিশমা দেখালেন রাশেদ অপু।

তিনি বললেন, কাজটি নিয়ে সাংঘাতিক আশাবাদী ছিলাম। আমরা যেটা অভিনয় করে দেখিয়েছি, বাস্তবে আরও বেশি কিছু ঘটেছে। পত্রিকায় জেনে বা এটা নিয়ে রিসার্চ করেই আমরা যতটুকু দেখানো যায় সেটা করেছি। তবে সিনেম্যাটিক নতুন অ্যাপ থেকে দর্শক কীভাবে দেখবে সেটা নিয়ে চিন্তা হতো। কিন্তু মুক্তির পর দেখলাম বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো মানুষ অ্যাপে গিয়ে ‘জানোয়ার’ দেখে মতামত দিচ্ছে।

রাশেদ অপু বলেন, কাজ করছি অনেক বছর হলো। কিন্তু প্রতিক্রিয়া পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে পাইনি বললে চলে। বিচ্ছিন্নভাবে শুনেছি, আমি ভালো পারফর্ম করি। ম্যাক্সিমাম সময়ে আমাকে ওভারলুক করে গেছে। এভাবে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো এতোগুলো মানুষ যাদের চিনিনা জানিনা কোনোদিন দেখিনি তারা আমাকে নিয়ে প্রশংসা করছে। আমার জন্য এটা বিশাল প্রাপ্তি।

‘জানোয়ার’ ছবির পোস্টার

তিনি বলেন, জীবনে কোনো অ্যাপ্রিসিয়েশন পাইনি। নিরবে নিভৃতে কাজ করে গিয়েছি। আমাকে নিয়ে কেউ সেভাবে বলিনি যে, আমি ভালো করতে পারি। হয়তো আমি সেভাবে কোনো কাজ দেখাতে পারিনি। অবশ্যই এবার দর্শক আমাকে আপ্লুত করেছেন। মানুষ যে এত পছন্দ করেছে এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কিছু হতে পারে না।

রাশেদ অপু বলেন, আমার জন্য কেউ কোনো লবিং বা সুপারিশও করেনি। যতদূর এসেছি নিজের যোগ্যতায়। ‘জানোয়ার’ এর পরিচালক, প্রোডাকশন হাউজ, হাজার হাজার দর্শক সবার কাছে আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। আমি চেষ্টা করেছি আমার চরিত্র থেকে কিছু করে দেখাতে। আগামীতে আমার অনেকগুলো সিনেমা আসছে। সবগুলোতে কিছু না কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করেছি। আমার এ চেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে।