চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্থি ও শান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন, প্রস্তুতি ইত্যাদি নিয়ে দেশ এখন আনন্দমুখর রাজনৈতিক পরিবেশের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে।
গণভবনে বসে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আচরণবিধির ১৪ ধারায় বলা আছে, সরকারের সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তার সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনী কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড যোগ করতে পারবেন না। রুহুল কবীর রিজভীর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন গণভবন ও বঙ্গভবনে নির্বাচনী প্রচারণা চালালে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। সুনির্দিষ্টভাবে কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমরা লক্ষ্য করছি এবারের নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের এইসব উদ্যোগ যদি এক তৃতীয়াংশও কার্যকর ভূমিকা রাখে, তবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না। একটি বিষয় অত্যন্ত আশাজাগানিয়া যে নির্বাচন কমিশন আচরণ বিধি লঙ্ঘণের কোনো অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানাচ্ছেন। এখন এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখছে সেটা দেখার বিষয়। শুধুমাত্র উদ্যোগের কথা বলে বাস্তবে ঠুঁটো জগ্গনাথ হয়ে বসে থাকলে জাতীয় নির্বাচনে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর আগেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সব দলগুলো অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে আসছিল। সব অভিযোগই যে আমলে নেয়ার মত বা আচরণবিধি লঙ্ঘণ করার মত, তা নয়। তবু আমরা আশা করি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নির্বাচন কমিশন কঠোর ভূমিকা রেখে একটি শতভাগ প্রশ্নহীন নির্বাচন উপহার দেবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের অনেক উদ্যোগ আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করা ক্ষেত্রে ইতিবাচক আশার আলো দেখাচ্ছে।