চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক সপ্তাহে চালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৭ টাকা

চলমান সংকট মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে চাল আমদানির পরামর্শ চালকল মালিকদের

দেশব্যাপী বন্যা ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মানুষ যখন চাকরি হারিয়ে কিংবা ব্যবসা গুটিয়ে বেকার হয়ে গেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হু হু করে বাড়ছে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে গড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা। এছাড়াও বেড়েছে সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, ব্রয়লার মুরগী, ডিম আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম।

বিজ্ঞাপন

সাধারণ মানুষ বলছেন, করোনা মহামারি আর বন্যার কবলে হাবুডুবু খাওয়া মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই বাড়তি দাম যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগময় এই সময়ে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে জিনিসপত্রের দাম কমানোর বিকল্প নেই। বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে তদারকি ও পণ্য আমদানির উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

বাজারে যে চালের দর বাড়ছে, সেই তথ্য স্বয়ং সরকারও জানিয়েছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির রোববারের বাজার দরের তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিকেজি চিকন চাল (নাজিরশাইল ও মিনিকেট) বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৪ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৬২ টাকায়।

মাঝারি মানের চাল (পাইজাম ও লতা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৪ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৪৪ থেকে ৫০ টাকায়।

আর নিম্ন আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা মোটা চালের (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) কেজি এখন ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

তবে বাস্তবে দেখা গেছে, টিসিবির দেয়া দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

রাজধানীর নাখালপাড়া, কাঁঠালবাগান, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিসিবির দেয়া দামের চেয়েও ২/৩ টাকা বেশি দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে দেখা যায় চালের কেজি সপ্তাহের ব্যবধানে ৬ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর নাখাল পাড়ার একটি মুদি দোকানে চাল কিনতে এসেছেন গৃহিণী শারমিন আক্তার। মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা শুনে হতাশ হলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনকে শারমিন বলেন, করোনায় চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছি ৩ মাস ধরে। কিন্তু চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এই দুর্যোগময় সময়ে গরিবদের টিকিয়ে রাখতে সরকারকে সব পণ্যের দাম কমানোর অনুরোধ জানান এই গৃহিণী।

চালের দামের বিষয়ে চালকল মালিকরা বলছেন, এবার ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাই সরবরাহ কমছে। কিন্তু তারা এও বলছেন, যেহেতু এখন সংকট দেখা দিয়েছে তাই সরকারের উচিত হবে চাল আমদানি করা। যাতে বাজারে দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দেশের অধিকাংশ চাল সরবরাহ হয়ে থাকে উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ, নীলফামারী, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, রংপুর কুড়িগ্রাম এসব জেল থেকে। কিন্তু এই জেলাগুলোতে ধান উত্তোলনের সময় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ

মোটা চালের দাম তুলনামূলক বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের উচিত এই মুহূর্তে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম চালু করা। এতে মোটা চালের দর কিছুটা কমে আসতে পারে।

বাজারে অভিযান আর নির্দেশনা দিয়ে কখনই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না উল্লেখ করে আব্দুর রশিদ বলেন, বরং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিয়ে কিভাবে বাজারে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

“আমি ব্যক্তিগত ভাবেও খাদ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি। যেন কয়েক টন চাল আমদানি করা হয়। কারণ ব্যবসায়ীরা বলবেই যে চালের দাম বাড়বে না। কিন্তু চাহিদা বাড়লে ঠিকই দাম বেড়ে যায়। তবে গত কয়েকদিন আগে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমরা জানতে পেরেছি ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ টন চাল আমদানি হতে পারে।”

এই মুহূর্তে চাল আমদানির বিকল্প নেই মন্তব্য করে এই চালকল মালিক বলেন, যেহেতু চালের বাজার উর্দ্ধমুখী। সামনে হয়তো আরো বাড়তে পারে। অতএব সরকারকে এখন জরুরি ভিত্তিতে মোটা চাল আমদানি করতেই হবে। এবং তা আমদানি করতে হবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই।

তবে ঢালাওভাবে আমদানি না করলেও অন্তত ২/৩ টন চিকন চালও আমদানি করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরফলে বিভিন্ন জেলায় যেসব চাল এখনো মজুদ করে রাখা হয়েছে সেগুলো দ্রুত বাজারে ছাড়তে বাধ্য ব্যবসায়ীরা বাধ্য হবেন বলে মনে করেন তিনি।