চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশী শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার

দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী সংকট মোকাবেলায় থাইল্যান্ডের আহবানে বিশেষ বৈঠকে সাড়া দিয়ে সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরণের সমস্যা নতুন। অতীতে এ ধরণের সংকট বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, শরণার্থী সংকট নিয়ে বাংলাদেশ যখনই অবগত হয়েছে তখনই এই বিষয়টি মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছে। যে দেশগুলোতে অভিবাসী প্রত্যাশীরা আছে সেখানে থাকা বাংলাদেশী দূতাবাসকে সঙ্গে সঙ্গেই এই বিষয়ে সচেতন করে দেয়া হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশী দূত যারা আছে, তারা নিজেরা গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয় বাংলাদেশ মে মাসের ১ তারিখ থেকেই সাগরে যথাসাধ্য উদ্ধার অভিযান চলমান রেখেছে। একশ’ ৩২ অভিবাসী প্রত্যাশীসহ একটি নৌকাও উদ্ধার করেছে। নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড গভীর সাগরে অভিবাসীদের নৌকার সন্ধান কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া শরণার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ বাংলাদেশী উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে এক মাসের মধ্যে তাদের স্বদেশে এনে পুনর্বাসিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মো. শহিদুল হক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, পাচারকারীদের কবলে পড়ে আর কাউকে যেন প্রতারণার ফাঁদে পড়তে না হয়, সেজন্য বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ চাকরি এবং বেশি আয়ের লোভ দেখিয়ে পাচারকারীরা এই মানুষগুলোকে বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে চালান করে দিচ্ছে।

সীমান্তে চোরাচালান রোধ এবং মানবপাচার বন্ধে বাংলাদেশ সম্প্রতি পার্শবর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মিয়ানমার এমন যৌথ অভিযান এবং কর্মকাণ্ডে আগ্রহী হলে বাংলাদেশ তা স্বাগত জানাবে। সেই সঙ্গে মানবপাচার, মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত সংযুক্ত অফিস বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সংকট নিরসনে এখন এর মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাচারকারীদেরকে মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে খেলতে দেয়া যায় না এবং অবশ্যই তাদের জিততে দেয়া হবেনা। সমস্যাটি সমাধানে অবশ্যই এই অঞ্চলের দেশগুলোকে আন্তরিকতা, একাত্মতা এবং প্রত্যয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। আর সেই সঙ্গে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এই মানবিক বিপর্যয়ের শিকার জনগোষ্ঠীর ভাগ্যর পরিবর্তনে বৈশ্বিক উদ্যোগের শরিক হতে চায়।

Bellow Post-Green View