চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক বছরে স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব বেড়েছে সাড়ে ৪ লাখ

দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের অন্যতম একটি পদক্ষেপ হলো স্কুল ব্যাংকিং। এই কার্যক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে বছরের ব্যবধানে হিসাব সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন (২০১৯) নাগাদ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুন শেষে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩৬টি। একই সময়ে মোট স্থিতি বা জমার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

তবে চলতি বছরের জুন শেষে মোট হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩টি। আর এসব হিসাবে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই হিসাবে গত এক বছরে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৯৪টি এবং এসব হিসাবে জমার পরিমাণ বেড়েছে ৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক বছরে হিসাব সংখ্যার প্রবৃদ্ধি ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং স্থিতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হিসাব সংখ্যা ও স্থিতির দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি ব্যাংকসমূহ মোট ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২৫টি ব্যাংক হিসাব খুলেছে শিক্ষার্থীরা। যা মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৬৯ দশমিক ৫২ শাতংশ। এসব হিসাবের বিপরীতে জমা হয়েছে ১ হাজার ২৩৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মোট স্থিতির ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ২৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খুললেও মোট স্থিতির ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ আমানত সংগ্রহ করেছে তারা।

তবে এসব হিসাব খোলায় গ্রামের চেয়ে শহরের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

তথ্যে দেখা গেছে, মোট হিসাবের ৩৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে এবং ৬১ দশমিক ৩৭ শতাংশ শহরাঞ্চলে খোলা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে স্থিতির পরিমাণ মোট স্থিতির যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৭৩ এবং ৭৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। এই কর্মসূচির আওতায় খোলা মোট হিসাবে ছাত্র ও ছাত্রীর অনুপাত ৫৭:৪৩।

একক ব্যাংক হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যক হিসাব খুলেছে ইসলামী ব্যাংক। যা মোট হিসাবের ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে শেষে ইসলামী ব্যাংকে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬২৩টি হিসাব খুলেছে শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে স্থিতির ভিত্তিতে শীর্ষে অবস্থান করছে। তাদের সংগৃহীত আমানত প্রায় ৪৬৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা মোট স্থিতির ৩১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকে দেশের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসাই হলো স্কুল ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং সেবা ও আধুনিক ব্যাংকিং প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করে দেয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে এ কর্মসূচি গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

Bellow Post-Green View