চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক দল মানবিক মানুষের স্বপ্ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাসি

‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে’- কবির এ ভাবনার জাগতিক বোধটা আজকাল বড় বেশি পীড়া দেয়। নিজের সন্তানের হাত ধরে পথ চলতে গিয়ে যখন সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুটির দিকে দৃষ্টি যায়; তখন মনে হয় এদের নামের পাশে ‘বঞ্চিত’ শব্দটি দূর করে দেয়ার দায়িত্ব আমার আপনার সকলের। এমনই মানবিক ভাবনা নিয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিনব কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকে নতুন নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে মানুষকে। এতে করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করার দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বিত্তবান শ্রেণির। একই সাথে তরুণ প্রজন্ম স্বেচ্ছায় কাজ করছে পথশিশুদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে। সিএমপির পজিটিভ ভাবনা ও সহযোগিতাকে সারথি করে যাত্রী ছাউনি ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা দিতে কাজ করছে নানাভাবে।

আসলে সমাজের একটি পেশা ও বিশেষ বাহিনীর পক্ষে মানবিক কার্যক্রম চালাতে দরকার হয় সে বাহিনীর সকল সদস্যর মননশীল মনোভাবের। এছাড়া পেশার আগে নিজেকে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তাটা থাকা জরুরি। আর এ চিন্তাটা আছে বলেই চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’- এ শ্লোগানকে অর্থবহ করে তুলতে কাজ করছে তাদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

সে কার্যক্রমের অনন্য উদাহরণের একটি হলো ‘শপ উইথ কপ-খুশির ঝুড়ি হাতে, চলি পুলিশের সাথে’ নামে এমন মানবিক আয়োজন করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগ ও সুপারশপ স্বপ্ন।

সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাকের সুপ্ত ভাবনার বাস্তব রূপ হলো এ ‘শপ উইথ কপ’ কার্যক্রমটি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা পুলিশের হাত ধরে ইচ্ছেমতো কেনাকাটা ও আনন্দ করবে আর নিজেদের অসহায় ও বঞ্চিত মনে করা ভুল – এ উপলদ্ধি দেয়ার চেষ্টাই হলো ‘শপ উইথ কপ’ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ।

সমাজে সকল শিশুর সম অধিকার- এ কথাটার বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই ‘সুবিধাবঞ্চিত’ শব্দটি মানুষকে লজ্জিত করে। আর কোমলমতি শিশুরা তাদের স্বপ্নগুলো হারিয়ে বিপথে পরিচালিত হয়। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তারাও ঝলমলে দোকানে কেনাকাটা করতে চায়। কিন্তু অসহায় পথ শিশুদের এ চাওয়াগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। শৈশবের এ অপূর্ণতা থেকে এরা অনেক সময় জড়িয়ে পড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, জঙ্গী হয়ে পুলিশের খাতায় নাম উঠে। তাই পুলিশ যখন মমতা আর ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে এ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে টেনে নেয়, তখন মনে হয় এ সমাজ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশু শব্দটি পাল্টে যাবে একদিন।

বিজ্ঞাপন

এ পাল্টে যাবার স্বপ্নটাকে সত্যি করে দিতে সিএমপির পুলিশ বাহিনী ও সুপার শপ স্বপ্ন পথ চলার যাত্রা শুরু করেছে ‘শপ উইথ কপ’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। চট্রগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত ৬০ জন শিশুকে নিয়ে দিনব্যাপী সুপারশপ স্বপ্নের আউটলেট কেনাকাটা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। শিশুরা তাদের ইচ্ছেমতো কেনাকাটা করেছে আর এর ব্যয়ভার বহন করছে পুলিশ বাহিনী।

সিএমপির এমন মানবিক ভাবনার গল্প নতুন নয়। করোনাকালিন সময়ে রাত দিন তারা মানুষকে সেবা দিয়েছে জীবনের তোয়াক্কা না করে। এ মানবিক বাহিনীর উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক একজন মানবিক মানুষ ও দেশপ্রেমী পুলিশ। চট্রগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাত্রী ছাউনির ‘দুই টাকার দোকান কিংবা একদিনের আহারসহ আরো অনেক মানবিক কাজ করে আসছেন নীরবে নিভৃতে। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের পুলিশ বাহিনীর মানবিক ভাবনা সমাজকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করবে। কারণ সমাজের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার সাথে সাথে পুলিশ পক্ষে মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই জনগণের বন্ধু হয়ে থাকা সম্ভব।

আর সব শিশুরাই দেশের আগামী দিনের সম্পদ। এদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব বোধ দেখে সমাজের অন্য পেশা ও শ্রেণির মানুষ এগিয়ে আসবে। যেভাবে ‘শপ উইথ কপ’ এর যাত্রার সূচনালগ্নে এগিয়ে এসেছে সুপার শপ স্বপ্ন, বারকোড ও যাত্রীছাউনি।

সিএমপির এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রয়াস সমাজকে বদলে দেয়ার স্বপ্ন দেখাতে সাহস যোগাবে বলে বিশ্বাস করে চট্রগ্রামবাসী। সরকারের একটা বিশেষ বাহিনী মানবতার হাত বাড়িয়ে দিলে তা সাধারণ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার শক্তি হয়ে সমস্বরে গেয়ে উঠে ‘আমরা করব জয়।’

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)