চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক কিলোমিটারের ব্যবধানে সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ

বৃষ্টি আর বন্যার কারণে প্রায় মাসখানেক ধরেই বাজারে সবজির দাম বাড়তির দিকে। তবে বড় বাজারগুলোর সাথে পাড়া-মহল্লার বাজারে দামের ফারাক অবিশ্বাস্য। রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে হাতিরপুল বাজার বা কাঁঠালবাগান বাজারের দূরত্ব আনুমানিক এক কিলোমিটার। কিন্তু এই এক কিলোমিটার ব্যবধানের দূরত্বে কোনো কোনো সবজির দাম নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণ।

শুক্রবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি সীম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, কাকরোল ৬০ টাকা, মরিচ ১৬০ টাকা, পাকা টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শশা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুণ ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এভাবে অন্যান্য প্রায় সবজির দামই চড়া দেখা গেছে এই বাজারগুলোতে।

বিজ্ঞাপন

তবে একই সীম কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে ৯০ টাকা, কাকরোল ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এই হিসাবে দুই বাজারে দামের পার্থক্য প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া কারওয়ান বাজারে মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, পাকা টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, বেগুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, গাজার ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়, পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, লাউ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস।

অন্যদিকে কাঁঠালবাগান এলাকায় ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও একই মুরগী কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। এই হিসাবে কাঁঠালবাগানের সাথে কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজির মুরগীর দামের পার্থক্য ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

কারওয়ান বাজার সবজির জন্য পাইকারি মার্কেট হলেও এখানে খুচরা দোকানও রয়েছে প্রায় শ’খানেক। কিন্তু এই খুচরা দোকানগুলোর সাথে হাতিরপুল আর কাঁঠাল বাগানের দোকানগুলোর সবজির দামে দ্বিগুণ পার্থক্য কেন? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি এই দুই বাজারের দোকানিরা। তবে তারা পরিবহন ব্যয় আর অতিরিক্ত দোকান ভাড়ার অজুহাত তুলে ধরেছেন।

কাঁঠালবাগান বাজারের সবজি বিক্রেতা হাসিব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যেখানে দাম কম সেখান থেকে কিনেন। কারওয়ান বাজার থেকে মালামাল কিনে আনতে অনেক বেগ পোহাতে হয়। গাড়ি ভাড়া দিতে হয়। তাছাড়া এখানে দোকান ভাড়া বেশি। সেজন্য দাম বেশি রাখতে হয়।

হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, ফজরের আযানের সময় গিয়ে মাল কিনে আনতে হয়। অনেক সময় সবজি নষ্ট হয়ে যায়। মাপে কম পাওয়া যায়। কিছু মাল ঘাটতি হয়। সব মিলিয়ে আমাদের ব্যবসার হিসেব করতে হয়। কাঁচা সবজির দাম সবসময় উঠা নামা করে। সকালে এক দাম তো বিকেলে আরেক দাম। এর সঠিক ব্যাখ্যা আর কী দেব?

এছাড়া উভয় দোকানদার জানালেন কারওয়ান বাজার থেকে তারা বেশি দাম দিয়েই সবজি কিনেন। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু কারওয়ান বাজারের খুচরা বাজারে সবজির দামের বিষয়ে জানালে তারা বলেন, পাইকারদের যেসব মাল বাশি হয়ে যায় ওই মাল খুচরা দোকানদাররা কিনে নেয়। এছাড়া তাদের পরিবহন ব্যয় হয় না। তাই তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে।

কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন ধরনের সবজি পাইকারি বিক্রি করেন রহিম মিয়া। তিনি চ্যানেল আই অনলাইকে বলেন, পাড়া-মহল্লার দোকানদাররা ক্রেতাদের বেশি ঠকায়। তারা দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি করে। এজন্য সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা নেবে। কারণ আমাদের পাইকারি বাজারে দামে তেমন আহামরি পার্থক্য হয় না।